নাগোয়া: শেফালি ভার্মার দুরন্ত শতরানের পর দাপট দেখালেন ভারতীয় বোলাররাও। বাংলাদেশকে ১১৪ রানে দুরমুশ করে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ফাইনালে পৌঁছাল হরমনপ্রীত কাউর-ব্রিগেড। রবিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টিম ইন্ডিয়া তোলে ৪ উইকেটে ১৯৫। সৌজন্যে শেফালির অপরাজিত ১০০। তাঁর ৪৯ বলের ইনিংসে রয়েছে ৯টি ছক্কা ও ৩টি চার। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম শতরানের নজির গড়লেন শেফালি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার সুবাদে এশিয়াডে মহিলাদের ক্রিকেটে রুপো নিশ্চিত ভারতের। পদকের রং সোনালি করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার খেতাবি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবেন স্মৃতি মান্ধানারা।
বাংলাদেশের মহিলা দল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাই এই ম্যাচে জয় প্রত্যাশিতই ছিল। তবে তারা যে এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করবে, সেটা বোধহয় কেউ ভাবেননি। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত। আগ্রাসী মেজাজে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংসের সূচনা করেন দুই ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭২। বড় শট মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে আসেন স্মৃতি। ১৯ বলে তাঁর ৩৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কায়। সেই পথে ইতিহাসও গড়েন বাঁ-হাতি ওপেনার। মহিলাদের টি-২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী এখন মান্ধানা (৪৭৮৮)। এছাড়া ভারতের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসাবে টি-২০’তে ১০০ ছক্কার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। স্মৃতি আউট হলেও শেফালি থামেননি। ৩৬ বলে অর্ধশতরান পূরণের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে লাগে মোট ৪৯টি বল। কমলিনী (৩) ও রিচা (২) অবশ্য হতাশ করলেন। তবে হরমনপ্রীত ৩৩ বলে মূল্যবান ৪০ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৯ রানেই ৫ উইকেট খোয়ায় তারা। শেষ পর্যন্ত একশোর গণ্ডিও টপকাতে পারেনি বঙ্গ-ব্রিগেড। তাদের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ওপেনার দিলারা আখতারের (২৭)। ভারতের হয়ে নন্দিনী শর্মা ও দীপ্তি শর্মা তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। শ্রী চরণির শিকার দু’টি উইকেট। এছাড়া ক্রান্তি গৌঢ় ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের সংগ্রহ ১টি করে উইকেট।