লন্ডন: সামনেই কঠিন পরীক্ষা। অতএব সময় নষ্টের বালাই নেই। দলবল নিয়ে ইংল্যান্ড বধের মহড়ায় নেমে পড়লেন কোচ গৌতম গম্ভীর। রবিবার লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পুরোদমে অনুশীলন সারলেন শুভমান গিল, যশপ্রীত বুমরাহরা। টিম ইন্ডিয়ার প্রথম দিনের প্র্যাকটিসের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বিসিসিআই।
বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার অবসরের পর খোলনলচে পাল্টে গিয়েছে ভারতীয় দল। আসন্ন ইংল্যান্ড সফর যে টিম ইন্ডিয়ার কাছে অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে, তা ভালোমতোই জানেন গুরু গম্ভীর। তাই মেগা সিরিজের প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছেন না তিনি। রবিবার টিম বাস থেকে নামার সময় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। লর্ডসের ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপের পর টিম-হার্ডলে পেপটক দেন কোচ গৌতম গম্ভীর। রীতিমতো সংকল্পবদ্ধ মনে হল তাঁকে। মিটিংয়ের শেষে অনেকটা সময় ফুটবলে মাতলেন অর্শদীপ, প্রসিদ্ধরা। তারই ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটি করতেও দেখা যায় পন্থকে। এরপর অনুশীলন হয় মূল মাঠে। শুরুতে ফিল্ডিং প্র্যাকটিস। পুনরায় জাতীয় দলে ফিরে আসা টি দীলিপের তত্বাবধানে চলে থ্রোয়িং ও ক্যাচিং প্র্যাকটিস।
পুরো সেশনে কড়া নজর রেখেছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। অর্শদীপ, সিরাজদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতেও দেখা যায় ভারতীয় দলের হেডস্যারকে। চোটের কারণে মহম্মদ সামিকে ইংল্যান্ডের দলে রাখা হয়নি। তাই বুমরাহর সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন এই দুই পেসার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইংল্যান্ডের পরিবেশে অর্শদীপ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। কারণ, দু’দিকে বল সুইং করাতে পারেন তরুণ বাঁ হাতি পেসার। সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে মহম্মদ সিরাজও ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও বল সুইং করাতে পারেন। তবে বুমরাহ ও সিরাজ ছাড়া বাকিরা তেমন অভিজ্ঞ নন। ভারতীয় এ দলের হয়ে খেলার কারণে এদিনের প্র্যাকটিসে ছিলেন না লোকেশ রাহুল, ধ্রুব জুরেল, করুণ নায়াররা। উল্লেখ্য, ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট শুরু ২০ জুন লিডসে। তার আগে ভারতীয় এ দলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবেন গিলরা।
এদিকে, টেস্ট সিরিজের আগে কোহলি ও রোহিত অবসর নেওয়ায় বেশ হতাশ ক্রিস ওকস। তারকা ইংলিশ পেসার এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘বরাবর শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে পছন্দ করি। বিরাট ও রোহিত ক্রিকেটের কিংবদন্তি। অতীতে ওদের বিরুদ্ধে ২২ গজের লড়াই দারুণ উপভোগ করেছি। সেটা মিস করব। আসলে বিরাট ও রোহিতের অবসর ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি।’ ওকসের সংযোজন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে অবশ্য প্রতিভার অভাব নেই। বিকল্প হিসেবে যারা আসবে তারাও সমীহ আদায় করে নিতে সক্ষম। তাই উপভোগ্য সিরিজ হবে বলেই আশাবাদী।’