হ্যামিলটন: একদিনের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ফয়সালা হয়েছে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে। বৃষ্টির কারণে কোনো ম্যাচই শেষ পর্যন্ত গড়ায়নি। মঙ্গলবার হ্যামিলটনে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও রয়েছে বৃষ্টির আশঙ্কা। যা পূর্বাভাস, তাতে সোমবার তো বটেই, ম্যাচের দিনও সিডন পার্ক ভাসতে পারে বৃষ্টিতে। গত কয়েকদিন ধরেই এখানে আকাশের মুখ ভার। শনিবারও বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার যদিও মেঘ-রোদের লুকোচুরি চলল দিনভর। ভারতীয় দল যখন ওয়েলিংটন থেকে উড়ানে নামল হ্যামিলটন বিমানবন্দরে তখনও আকাশ অংশত মেঘলা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারও কম রানের থ্রিলার দেখার সম্ভাবনা বেশি।
ভারতীয় শিবিরের আবহ অবশ্য ফুরফুরে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ এগিয়ে শুভমান গিল ব্রিগেড। সিরিজ জিততে চাই আর মাত্র একটা জয়। আর তা সিডন পার্কেই হয়ে গেলে স্বস্তি। কারণ, টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য শেষ দুই ওডিআই খেলবেন না গিল, লোকেশ রাহুল ও অংশুল কম্বোজ। চতুর্থ ও পঞ্চম একদিনের ম্যাচে তাই শক্তি কমতে বাধ্য। সেজন্যই হ্যামিলটনে সিরিজ পকেটে পুরতে বদ্ধপরিকর টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু বৃষ্টিই চিন্তায় রাখছে। কারণ, চলতি সিরিজে টস হয়ে উঠছে বড়ো ফ্যাক্টর। গিল প্রথম দুই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন বলেই গোড়াতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল হোমটিম। কোনো ম্যাচেই ৪১ ওভারের বেশি টিকতে পারেনি কিউয়িরা। স্যাঁতসেঁতে কন্ডিশনের কারণে সিম মুভমেন্ট তো বটেই, বাউন্সও বেকায়দায় ফেলেছে ব্যাটারদের। ওয়েলিংটনে শনিবার তো শেষলগ্নে রীতিমতো অস্বস্তিতে ছিল ভারত। নেহাত বৃষ্টি এসে যায় পরিত্রাতা হিসাবে। ম্যাচের পরে গিলের গলায় ছিল স্বস্তি। তিনি বলেন, হেরেও যেতে পারত ভারত!
গুরনুর ব্রার, অর্শদীপ সিং, আকিব নবি, কম্বোজকে নিয়ে গঠিত অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণ অবশ্য ভরসা জোগাচ্ছে। দুই ম্যাচেই তাঁরা কাজে লাগিয়েছেন কন্ডিশন। নিয়মিত আঘাত হানার পাশাপাশি আঁটসাঁট লাইন-লেংথে আটকেও রেখেছেন রানের গতি। তবে ব্যাটারদের নিয়ে চিন্তা থাকছেই। বিরাট কোহলি ও গিল অকল্যান্ডে রান পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ। রোহিত দুটো ম্যাচ মিলিয়ে করেছেন ২৩। বাকি তিন ম্যাচে আর ১৭ ছক্কা হাঁকালে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ওডিআই ফরম্যাটে চারশো ছয় মারার রেকর্ড গড়বেন হিটম্যান। আর ২৪ ছক্কা হাঁকালে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭০০ ছয়ের মালিক হবেন তিনি। তবে সে জন্য দ্রুত ফর্মে ফেরা জরুরি।
মিডল অর্ডারে শ্রেয়স আয়ারের দু’ইনিংসে অবদান ৪৫। অক্ষর প্যাটেলকে আবার পাঁচ নম্বরে একেবারেই বেমানান লাগছে। নমন ধীর ও কম্বোজ যেভাবে শেষদিকে উইকেট ছুড়ে দিয়েছেন, তাতেও অসন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট। ছয় নম্বরে লোকেশ রাহুল অবশ্য যথারীতি পরিণত ইনিংস উপহার দেন। ‘গেমচেঞ্জার অব দ্য ম্যাচ’ হিসাবে পাওয়া মোবাইল ফোন তিনি উপহার দেন হেনরি স্টেডিয়ামের এক মহিলা স্টাফকে।



