সংবাদদাতা, তেহট্ট: প্রদীপের আলো আর মোমবাতির শিখায় দীপাবলি উদ্যাপনের পরিচিত ছবিটা ক্রমশ বদলাচ্ছে। তার জায়গা দখল করছে রকমারি বৈদ্যুতিক আলো। বিশেষ করে চাইনিজ আলোর প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বাড়ায় কালীপুজোর আগে তেহট্ট বাজারে মোমবাতির চাহিদা কমেছে। কয়েক বছর আগেও দীপাবলির বেশ কিছুদিন আগে থেকে দোকানে, দোকানে বিভিন্ন ধরনের মোমবাতির স্তূপ দেখা যেত। ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ মোমবাতি মজুত করতেন। কিন্তু এবার সেই ছবি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বাজারের অধিকাংশ দোকানেই মোমবাতির মজুত চোখে পড়ে না। বিক্রিও কার্যত তলানিতে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে কালীপুজোর সময় ঘর সাজানো, ঠাকুরের আসন সাজানো এবং বাড়ির চারপাশ আলোকিত রাখার জন্য মোমবাতির যথেষ্ট চাহিদা ছিল। একসময় কোনো কোনো দোকানে একশো প্যাকেট বা তারও বেশি মোমবাতি বিক্রি হত। কিন্তু বর্তমানে কম দামে বিভিন্ন রঙের এবং নকশার বৈদ্যুতিক আলো সহজেই হাতের কাছে মেলে। সেই সঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের ঝলমলে চাইনিজ সব আলো। একবার কিনলে বারবার ব্যবহার করা যায়, এমন সুবিধার কারণেও ক্রেতাদের একাংশ মোমবাতির বদলে বৈদ্যুতিক আলোর দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ধীরে ধীরে মোমবাতির বাজারে প্রভাব পড়ছে। তেহট্ট বাজারের মোমবাতি ব্যবসায়ী কল্যাণ হালদারের কথায়, অন্য বছর এই সময়ে কালীপুজোর কথা মাথায় রেখে দোকানে ২০০ থেকে ২৫০ প্যাকেট মোমবাতি মজুত রাখতাম। এবার এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫০ প্যাকেট মজুত করেছি। অন্য বছর এই সময় থেকেই মোমবাতি বিক্রি শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক আলোর দোকানগুলিতে ছবি একেবারেই আলাদা। সেখানে ক্রেতাদের আনাগোনা ও আলোর চাহিদা দুই-ই বেশি। বিভিন্ন রকমের রঙিন আলো, ঝলমলে লাইট এবং সাজানোর সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। তেহট্ট বাজারের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা রাজু মোদক বলেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় চাইনিজ আলোর বিক্রি বেশি। ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের আলোর চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও সাধ্য অনুযায়ী আলো কিনছেন।



