Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

১ আগস্ট থেকে জনগণনার কাজে শিক্ষকরা, প্রশ্নের মুখে পঠনপাঠন

এসআইআর এর কাজের পর এবার ২০২৭ সালের জনগণনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

১ আগস্ট থেকে জনগণনার কাজে শিক্ষকরা, প্রশ্নের মুখে পঠনপাঠন
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: এসআইআর এর কাজের পর এবার ২০২৭ সালের জনগণনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। ফলে প্রশাসনিক এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে জনগণনার কাজ শুরুর কথা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিক্ষকের সংকটে ভোগা স্কুলগুলিতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কীভাবে স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, করিমপুর চক্রের ৮৫টি প্রাথমিক স্কুলের মোট ৩৮৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ২২০ জনকে জনগণনার কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, করিমপুর নতুন চক্রের ৫১টি স্কুলের ২৪৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৭৫ জনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুই চক্র মিলিয়ে মোট ৬৩৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩৯৫ জনকেই জনগণনার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে, যা মোট শিক্ষকের অর্ধেকেরও বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা জনগণনার কাজে নিযুক্ত হলে এলাকায় ১৬টি প্রাথমিক স্কুলে কোনো শিক্ষক থাকবেন না। এছাড়া আরও ১৪টি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক পড়াতে পারবেন। ফলে জনগণনার সময় ওই স্কুলগুলিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা। 
শিক্ষক সংগঠনের একাংশের দাবি, বহু শিক্ষক ইতিমধ্যেই বিএলও হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছেন। তার সঙ্গে জনগণনার দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় স্কুলগুলিতে শিক্ষকশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে শুধু পড়াশোনাই নয়, স্কুলের প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকদের মতে, জনগণনা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে বিএলওর কাজ, জনগণনা এবং স্কুলের নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে জনগণনার কাজে বিকল্প জনবল নিয়োগ অথবা বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষক মহলের একাংশ। যদিও এবিষয়ে নদীয়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ