Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহিদগড় হাইস্কুলের তিন কৃতীকে নিয়ে গর্বিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা, ডব্লুবিসিএসে সফল দৈব্যনাথ

ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ময়নাগুড়ির দৈব্যনাথ রায়ের জন্য গর্বিত শহিদগড় হাইস্কুল। স্কুলের ইতিহাসে এই প্রথম কেউ ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় সফল হলেন।

শহিদগড় হাইস্কুলের তিন কৃতীকে নিয়ে গর্বিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা, ডব্লুবিসিএসে সফল দৈব্যনাথ
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ চক্রবর্তী ,ময়নাগুড়ি:ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ময়নাগুড়ির দৈব্যনাথ রায়ের জন্য গর্বিত শহিদগড় হাইস্কুল। স্কুলের ইতিহাসে এই প্রথম কেউ ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় সফল হলেন। দৈব্যনাথ রায়ের পাশাপাশি এই স্কুলের আরও দুই ছাত্র সঞ্জু মহম্মদ ও উৎপল রায়ের চাকরি হয়েছে সিআরপিএফে। বুধবার স্কুলের এই তিন প্রাক্তনীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তিন জনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন তাঁরা।

Advertisement

দৈব্যনাথ রায়ের বাড়ি ময়নাগুড়ির হঠাৎ কলোনিতে। তাঁর বাবা সুভাষ রায় হোটেলের কর্মচারী। দৈব্যনাথ শহিদগড় হাইস্কুল থেকে ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে ময়নাগুড়ি কলেজে ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর স্নাতকোত্তর করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এমএ পাশ করে ডব্লুবিসিএস পরীক্ষা দেন। ২৭ জানুয়ারি ফল প্রকাশ হয়। সেখানে তিনি ৩৯ র‌্যাঙ্ক করেন। এই খবর জানাজানি হতেই খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে গোটা ময়নাগুড়িতে।

অপরদিকে, কৃষক ঘরের ছেলে ময়নাগুড়ির মধ্য খাগড়াবাড়ির সঞ্জু মহম্মদ ও দক্ষিণ খাগড়াবাড়ির উৎপল রায় সম্প্রতি চাকরি পেয়েছেন সিআরপিএফে। উৎপলও কৃষক পরিবারের ছেলে। তিনি এখনও কৃষিকাজ করেন। সঞ্জু ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন উৎপল।

সঞ্জু এবং উৎপল দু’জনই বলেন, ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল দেশের হয়ে কাজ করার। তাই উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করি। নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেদের তৈরি করি। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ির কাছে কাওয়াখালিতে জয়েনিং রয়েছে।

এদিকে দৈব্যনাথ রায় বলেন, আমার স্কুলের শিক্ষিকা অপর্ণা দাস আমাকে গাইড করেছিলেন। ডব্লুবিসিএসের ইন্টারভিউয়ের জন্য অনলাইনে ক্লাস করি। আলাদাভাবে কোথাও কোচিং নেওয়া হয়নি। আমরা কয়েকজন ২০২১ সাল থেকেই গ্রুপ স্টাডি করতাম। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোটস জোগাড় করেছিলাম। ডব্লুবিসিএস পরীক্ষার জন্য কীভাবে নিজেকে তৈরি হতে হবে, সেব্যাপারে কেউ আমার কাছে এলে অবশ্যই সহযোগিতা করব।

শহিদগড় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রত ভাদুড়ি বলেন, স্কুলের তিন কৃতীকে নিয়ে আমরা গর্বিত। একজন বিডিও হিসেবে চাকরিতে যোগ দেবে। অন্য দু’জন সরাসরি দেশ সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে। আমাদের স্কুল ১৯৬৫ সালে স্থাপিত। এই প্রথম কেউ ডব্লুবিসিএসে সফল হল।

স্কুলের আরএক শিক্ষক দীপক চক্রবর্তী বলেন, আমাদের স্কুলের কোনও না কোনও পড়ুয়া প্রতিবছর প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি পায়। ওদের সাফল্যে আমরা খুশি। প্রত্যেক পড়ুয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ