নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মতো এ রাজ্যের শিক্ষকদের সরাসরি সরকারি কর্মীর মর্যাদা দিতে চায় দল। মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থাগারে দলের শিক্ষক সেলের সমাবেশে এসে একথা ঘোষণা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে, তিনি এও জানান, এ বিষয়ে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেবে। বিধানসভায় বিল পাশ করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রীস্তরে ভাবনাচিন্তা শুরু করা হয়েছে। একথা শুনেই করতালিতে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা। শমীকবাবু বলেন, ‘এতে হয়ত তাঁদের আর্থিক সুবিধা বিশেষ হবে এমন নয়, তবে চাকরির নিরাপত্তা অনেকগুণ বেড়ে যাবে।’
দল ও সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ করার কথা শমীকবাবু এদিনও বলেন। তিনি বলেন, ‘চার ঘণ্টার বিজেপি’দের সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কে কত বড় বিজেপি, তা দেখাতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। উঠে আসে ডিম প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ডিম ছোড়া, গ্লাসে ডিম গুলে মাথায় ঢেলে দেওয়া বিজেপির সংস্কৃতি নয়। দল এর প্রবল বিরোধী। সারা দেশ এগুলি দেখছে। সেখানে বিজেপির ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হচ্ছে। তাই এই পথ থেকে সরে আসুন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দল এবং সরকার আলাদা। প্রতিশ্রুতিমতো সরকার কাজ করছে কি না, তার উপরে নজর থাকবে দলের। এরপর তিনি ‘ভালো তৃণমূল’ প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের যে নেতা-কর্মীরা তোলাবাজি বা হিংসায় জড়িত ছিলেন না, তাঁদের ভালো তৃণমূল বলেছিলাম। তাতে দেখলাম আমাকে নিয়ে ব্যাপক ‘ট্রোলিং’ (সমাজমাধ্যমে সমালোচনা) হচ্ছে। এতে একটা ভালো দিক আছে। তৃণমূলকে যে মানুষ কতটা ঘৃণা করছেন, তা বোঝা গিয়েছে।
এদিন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, ট্রান্সফার নিয়ে অসংখ্য শিক্ষক তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ বা ইমেলে যোগাযোগ করছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সমস্যা থাকলে সেলের মাধ্যমে আসতে হবে। আর ট্রান্সফার চালু করার আগে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে দপ্তর। তাই এখনই এ বিষয়ে কোনও তদ্বির করলে চলবে না। চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচুর আইনি জট রয়েছে। তা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এমনকি, এর পরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হবে। স্কুলগুলিতে ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থাও দ্রুত চালু করার ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে, পরিকাঠামো যাই হোক, শিক্ষকদের তার মধ্যেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী এবং শমীকবাবু দু’জনেই সরকারের সমালোচনা সমাজমাধ্যমে না করে যথাযথ জায়গায় করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকদের। তবে, শিক্ষকদের সরকারি কর্মীর মর্যাদাপ্রদান সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মন্ত্রী। শিক্ষক সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘সরকারি কর্মীর মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। এতে অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।’ এদিনের সভা পরিচালনা করেন সেলের আহ্বায়ক অসিত মণ্ডল।