নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কর্মরত শিক্ষকদের আবশ্যিকভাবে টেট-এ বসার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লিতে এনসিটিই’র অফিসে গিয়ে এটি আটকানোর জন্য দাবিপত্র দিয়ে এলেন তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি তথা ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি অশোক রুদ্র। তিনি বলেন, ‘এনসিটিইর ভুল সিদ্ধান্তের জন্যই পিটিটিআই সমস্যা হয়েছিল। তখনও লড়াই করেছিলাম। সেটা ছিল চাকরি পাওয়ার লড়াই। এবারেরটা চাকরি বাঁচানোর। এক্ষেত্রেও এনসিটিইর ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী।’
একইভাবে আসরে নেমেছে সদ্য ভেঙে দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিও। সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি পলাশ সাধুখাঁ বলেন, ‘সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে, ২২ সেপ্টেম্বর আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে ১২ পাতার চিঠি এবং ৩০০ পাতারও বেশি তথ্য অ্যানেক্সচার করে দিয়েছিলাম। আমরা চাই, রাজ্য সরকার অন্যান্য রাজ্যের মতো এটা নিয়ে রিভিউ পিটিশনে যাক। রাজ্য যে সেই পদক্ষেপ করতে চলেছে, তেমন ইঙ্গিতই পাচ্ছি।’ পলাশবাবুর দাবি, উত্তরপ্রদেশের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যও রিভিউ পিটিশনের পদক্ষেপ করেছে। অথচ ত্রিপুরার বিজেপি সরকার এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। তাই আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য সে রাজ্যের বিজেপির শিক্ষক সংগঠনও পলাশবাবুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভির মতো আইনজীবীদের এই মামলায় নিযুক্ত করা যায়।
আদালতের রায়ের পরে বেশ কিছু ঘটনাও সামনে আসছে। কর্মরত বহু শিক্ষক টেট-এর শংসাপত্রই তোলেননি। কারণ, তাঁরা আগের চাকরিতেই রয়ে গিয়েছিলেন। এই রায়ের পরে তাঁরা নতুন করে সেই শংসাপত্র তুলতে যাচ্ছেন। তবে সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁদের পাত্তা দিচ্ছে না এসএসসি। অনেকের কাছে শংসাপত্র থাকলেও আজীবন বৈধতার স্ট্যাম্প মারা নেই সেগুলিতে। সেটাও এই পরিস্থিতিতে তাঁরা করাতে পারছেন না। তাই সব মিলিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
২০১৬ সালের আগে উচ্চ প্রাথমিকে আলাদা করে নিয়োগ হতো না। পাশ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ করা হতো নর্মাল সেকশনে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিতেন তাঁরা। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার এই ধরনের শিক্ষকদের শূন্যপদের ভিত্তিতে উচ্চ প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে ভাগ করতে শুরু করেছিল। যদিও শিক্ষকদের তীব্র আপত্তিতে সেই পৃথকীকরণ থমকে যায়। তা সত্ত্বেও শিক্ষাদপ্তরের আইওএসএমএস পোর্টালে এই ধরনের শিক্ষকদের নামের পাশে উচ্চ প্রাথমিক/মাধ্যমিক লেখা রয়েছে। ফলে এনিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। দুশ্চিন্তার জায়গাটা হল, প্রাথমিকের মতো উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদেরও টেট উত্তীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাই নর্মাল সেকশনও আশঙ্কার বাইরে নেই।
শারীরশিক্ষার শিক্ষকদের টেট-এ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারভিউ উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। এখন তাঁরাও পড়েছেন ধন্দে। তাঁদের আশঙ্কা, এই নির্দেশের ফলে তাঁদেরও পরীক্ষায় বসতে হবে। প্রসঙ্গত, শিক্ষাদপ্তরের নথিতে এ ধরনের শিক্ষকরা উচ্চ প্রাথমিক স্তরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাই আশঙ্কা কাটছে না তাঁদেরও।