নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তম পে কমিশনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য শনিবারই ছিল শেষদিন। ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় সব শিক্ষক সংগঠন নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। মূল দাবি হিসাবে উঠে এসেছে কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম (ক্যাস) অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি, জাতীয় হারে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার (পিজিটি) এবং ট্রেইন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার (টিজিটি) স্কেলের বেতন প্রদান, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে শিক্ষকদের আনা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের (টিআইসি) বাড়তি আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা প্রদান।
শিক্ষক সংগঠন এপিজিটিডব্লুএর তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বেতনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮০ করা হোক। বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ৬৯ হাজার টাকা, এইচআরএ ১৮ শতাংশ করা, মেডিকেল অ্যালাওয়েন্স ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা অথবা হেলথ স্কিমের সুবিধা দেওয়া, টিআইসিদের অন্তত পাঁচ হাজার টাকা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, পিএইচডি থাকলে বাড়তি দুটি ইনক্রিমেন্ট। ‘ক্যাস’ মেনে শিক্ষকদের পদোন্নতির সুপারিশও করা হয়েছে।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএর সুপারিশ, গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের বেতন ন্যূনতম ৮২ হাজার টাকা করা হোক। তাদের দাবির স্বপক্ষে একটি হিসাবও তারা কমিশনকে দিয়েছে। তাদের মতে, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বঞ্চিত শিক্ষাকর্মীরাই। তাঁরা প্রচুর কাজ করেও নামমাত্র বেতন পান। একই অবস্থা গ্রুপ সি কর্মীদের। গত বারের পে স্কেলের ১০ বছরের বেতন ধরে তার সঙ্গে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরকে গুণ করে কর্মীদের এই বেতন দাঁড়াচ্ছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অবশ্য ৩.২৭ করার সুপারিশ জানিয়েছে তারা। চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের পে কমিশনের আওতায় এনে বেতনবৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ তাদের সুপারিশে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩ করার দাবি জানিয়েছে। ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতনের দাবি জানানো হচ্ছে ৫১ হাজার টাকা। এম ফিল এবং পিএইচডির জন্য অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট, শিক্ষকদের পদোন্নতি, আর্ন লিভের সুবিধা নিশ্চিত করা, ঊর্ধ্বসীমা ছাড়া ১৫ শতাংশ এইচআরএ প্রদানের দাবি রয়েছে। সবকটি সংগঠনই অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও বিশেষ দাবি জানিয়েছে। গ্র্যাচুইটি ন্যূনতম ৫০ লক্ষ টাকা করা, মূল পেনশন শেষ বেতনের ৬৭ শতাংশ এবং পারিবারিক বেতন ৫০ শতাংশ করার দাবিও জানিয়েছে ঐক্য মঞ্চ সহ অন্যান্য কয়েকটি সংগঠন।



