Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাফ প্যান্ট ছেড়ে ধুতি-পাঞ্জাবিতে আবির, স্কুল পরিচালনার গুরুদায়িত্বে পঞ্চম শ্রেণির ‘হেডমাস্টার’

‘গুড মর্নিং স্যার’। ‘স্যার, আজ মিড ডে মিলে কি রান্না হবে?’ ‘স্যার বাড়ি যাচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ধরনের একের পর এক বিষয় সামলাতে হয়েছে শ্যামপুর উত্তরচক্রের কাঁঠালদহ বোর্ড প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির সাঁতরাকে।

হাফ প্যান্ট ছেড়ে ধুতি-পাঞ্জাবিতে আবির, স্কুল পরিচালনার গুরুদায়িত্বে পঞ্চম শ্রেণির ‘হেডমাস্টার’
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : ‘গুড মর্নিং স্যার’। ‘স্যার, আজ মিড ডে মিলে কি রান্না হবে?’ ‘স্যার বাড়ি যাচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ধরনের একের পর এক বিষয় সামলাতে হয়েছে শ্যামপুর উত্তরচক্রের কাঁঠালদহ বোর্ড প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির সাঁতরাকে। 

Advertisement

আবির এদিন স্কুলে ছাত্র হিসেবে আসেনি। এসেছিল প্রধান শিক্ষক হয়ে। স্কুল ইউনিফর্ম খুলে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দায়িত্ব পালন করেছে এই খুদে পড়ুয়া। শুক্রবার শিক্ষক দিবস। তার আগে একদিনের জন্য আবির হয়েছিল প্রধানশিক্ষক। এ দায়িত্ব তাকে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ক্লাস ফাইভের ১১ ছাত্র-ছাত্রী এদিন ক্লাস নিয়েছে। পড়িয়েছে বাকিদের।
এই বিদ্যালয়ে প্রি প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি, পড়ুয়া সংখ্যা ৭৮। আছেন পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ সামন্ত। স্কুলের এক ছাত্রকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে পাশ-ফেল না থাকার কারণে পড়ুয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতার অভাব দেখা যাচ্ছে। সে কারণে সেশন শুরু হওয়ার সময় আমি অভিভাবকদের বলেছিলাম, পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে যে পড়াশোনা, খেলাধুলা, সামাজিক রীতিনীতি ইত্যাদি মিলিয়ে যে সবদিক থেকে পারদর্শী, তাকে একদিনের জন্য প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে অন্যান্য ক্লাসের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠবে। এবং তারাও সবদিক থেকে পারদর্শী হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
ফলে এদিন সকালে সাদা ধুতি এবং সবুজ পাঞ্জাবি পরে স্কুলে এসেছিল আবির। প্রধান শিক্ষক ফুলের স্তবক দিয়ে একদিনের প্রধান শিক্ষককে বরণ করেন। এরপর আবির গিয়ে বসে প্রধান শিক্ষকের বড় চেয়ারে। চেয়ারটা তার তুলনায় উঁচু। তবুও পা ঝুলিয়ে গম্ভীর হয়ে বসেছিল। তারপর একে একে সামলেছে সব দায়িত্ব। 
কখনও গিয়েছে ক্লাসরুমে। তার থেকেও ছোটরা কেমনভাবে পড়াশোনা করছে সেদিকে কড়া নজর রেখেছিল। ঘরে ফিরে শিক্ষকদের রোস্টার দিয়ে পাঠিয়েছে ক্লাসে পড়াতে। খাওয়ার আগে মিড ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে বুঝিয়ে দিয়েছে মেনু। জিনিসপত্রের বিষয়েও কথা বলেছে হিসেবি মানুষের মতো। স্কুলে সব গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তা সামলেছে একদিনের প্রধান শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির আবির। এখানেই শেষ নয়, স্কুল ছুটির পর দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে প্রি প্রাইমারির ছাত্র-ছাত্রীদের। একদিনের প্রধান শিক্ষক হয়ে কেমন লাগছে? আবির খুশি। বলেছে, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি এটা নতুন অভিজ্ঞতা।’ আর খুদে একদিনের শিক্ষররাও নতুন দায়িত্ব পেয়ে আনন্দিত। এতদিন পড়ত। পড়া না পারলে বকুনি খেত। এদিন তারাই শিক্ষক। ফলে ক্লাসে পড়ানোর সুযোগ পেয়ে ছাতি খানিক ফুলিয়েই ঘুরেছে বিদ্যালয় চত্বরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ