নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দলীয় কোন্দলের আঁচ! দলের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ‘ফতোয়া’! তাই এবার শিলিগুড়িতে শিক্ষক দিবস পালন করল না বিজেপির টিচার্স সেল। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের নেতা বিশ্বদীপ ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের প্রতি দলের এক জেলা নেতার কুকথা নিয়েও প্রতিবাদ করেছেন। খড়িবাড়ির মণ্ডল কমিটির দ্বন্দ্বের মধ্যেই শিক্ষা সেলের নেতার অভিযোগ ঘিরে পার্টির অন্দরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, সমন্বয়ের অভাবে জেরবার গেরুয়া শিবির। যার জেরে ওদের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল অবশ্য বলেন, বিশ্বদীপ ঘোষের বক্তব্য নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। আর দলের কোনও নেতা শিক্ষকদের নিয়ে কী মন্তব্য করেছেন, তাও জানা নেই। তবে দলে তেমন কোনও দ্বন্দ্ব বা সমস্যাও নেই।
বিজেপির জেলা সভাপতি যাই বলুন না কেন শিলিগুড়িতে পদ্ম শিবিরের কোন্দল ক্রমশ্য ঊর্ধ্বমুখী। শিক্ষক দিবস পালন নিয়েও সেই দ্বন্দ্বের আঁচ। দলীয় সূত্রের খবর, ফি বছর দলের জেলা অফিসে শিক্ষক দিবস পালন করে বিজেপির টিচার্স সেল। দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গাতেও তারা দিনটি উদযাপন করে। কিন্তু এবার তারা দলীয় অফিসে সেই অনুষ্ঠান করতে পারেনি। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন শিক্ষক নেতা বিশ্বদীপ। শহরের প্রধাননগরে তাঁর বাড়ি। তিনি নকশালবাড়ির একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। তিনি বলেন, দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে পার্টি অফিসে কিংবা বাইরে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে দলের জেলা সভাপতি বারণ করেছেন। তাই এবার দিনটি পালন করতে পারিনি। এজন্য সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।
বিজেপি জেলা সভাপতি বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও দলের একাংশের বক্তব্য, দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল মারাত্মকভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে। যার নতুন সংযোজন জেলা কমিটির শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনের বিরোধ। তাই শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান হয়নি।
এদিকে, শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে দলের জেলা কমিটির এক নেতার বক্তব্য নিয়েও প্রতিবাদ করেছেন বিশ্বদীপ। তিনি বলেন, বাংলার সমস্ত শিক্ষককে সোশ্যাল মিডিয়ায় মূর্খ বলেছেন দলের জেলা কমিটির এক নেতা। ওই নেতার এমন বক্তব্য মানা যায় না। তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। পুলিসের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগও রয়েছে। সমগ্র বিষয় দলের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। চেষ্টা করেও বিজেপির ওই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দলের জেলা সভাপতিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, খড়িবাড়ির রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি মণ্ডল কমিটিতে বিজেপির বিরোধ অব্যাহত। ইতিমধ্যে মণ্ডলের বিভিন্ন পদ থেকে ১৯ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। এই অবস্থায় জেলা কমিটি ও শিক্ষক সংগঠনের বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় দলের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।