নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জনগণনার কাজে ব্যস্ত অধিকাংশ শিক্ষক। আর এরই জেরে পড়ুয়াদের সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসতে বলা হল। জলপাইগুড়ির ফণীন্দ্রদেব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলামের অবশ্য দাবি, শিক্ষকদের বেশিরভাগই জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিভাবকদের একাংশই এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সহ শিক্ষাদপ্তরের অধিকারিকদের জানানো হয়েছে।
এদিকে, বেশিরভাগ শিক্ষক জনগণনার কাজে যুক্ত থাকায় একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে সব পড়ুয়াকে নিয়ে রোজ ক্লাস চালানো মুশকিল। যদিও এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা যখন সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আস্থা ফেরানোর কথা বলছেন, সেখানে জনগণনার কাজের জন্য পড়ুয়াদের সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসতে বলা হচ্ছে, এটা কেমন বিষয়?
জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়ের অবশ্য বক্তব্য, জনগণনার কাজ যেমন চলবে, তেমনই স্কুলও চালু রাখতে হবে।
জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম নামী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফণীন্দ্রদেব প্রাথমিক বিদ্যালয় (বয়েজ)। হাইস্কুলের ক্যাম্পাসেই প্রাথমিক স্কুল চলে মর্নিং শিফ্টে। প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্র সংখ্যা ১১৪৩ জন। ৩১ জন শিক্ষক। স্কুল সূত্রে খবর, ২৫ জন শিক্ষককে জনগণনার ডিউটি দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা ওই কাজ সামলে নিয়মিত ক্লাস করাতে পারছেন না। এদিন ক্লাসে শিক্ষকের অভাবে মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই পড়ুয়াদের সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসতে বলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম বলেন, এদিন কিছু অভিভাবক আমাদের প্রস্তাব দেন যে, পালা করে যদি ক্লাস নেওয়া যায়। বিষয়টি জানানো হয়েছে শিক্ষাদপ্তরের জেলা অধিকারিকদের।
এদিকে, জলপাইগুড়ি সদর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেন, আমাদের স্কুলে ৩৩ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ২২ জন জনগণনার কাজে ব্যস্ত। ফলে ফলে ১১ জন শিক্ষক দিয়ে কী করে স্কুল চালানো সম্ভব? এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানাব।