চণ্ডীগড়, ৪ আগস্ট: প্রতিদিনের মতোই একটি সুন্দর সকাল নিমেষেই বদলে গেল ভয়ানক দৃশ্যে। দিনের আলোয় স্কুল চত্বরে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক ছুরির আঘাত করে খুন করল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। নিহতের নাম সন্ধ্যা (২৯)।
চণ্ডীগড়, ৪ আগস্ট: প্রতিদিনের মতোই একটি সুন্দর সকাল নিমেষেই বদলে গেল ভয়ানক দৃশ্যে। দিনের আলোয় স্কুল চত্বরে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক ছুরির আঘাত করে খুন করল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। নিহতের নাম সন্ধ্যা (২৯)।
সন্ধ্যা ফরিদাবাদের সিকরোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকাল প্রায় সাড়ে ৬টা নাগাদ প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর একজন যুবক মুখে সাদা কাপড় বেঁধে স্কুলের গেটের বাইরে শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে চান। স্কুলের কর্মীরা সন্ধ্যাকে এই বিষয়টি জানালে সে বাইরে যেতেই আচমকাই তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই যুবক। অভিযোগ প্রথমে তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে ওই শিক্ষিকার শরীরে অন্তত ২৭টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত বেশ কয়েক মিনিট ধরে স্কুলের ভিতরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলেও তাকে কেউ বাধা দেয়নি। পরে সুযোগ বুঝে শিক্ষিকার উপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সন্ধ্যা। এমনকি তিনি পড়ে যাওয়ার পরও হামলা থামায়নি অভিযুক্ত। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ভয়ে অনেকেই কাছে যেতে সাহস পাননি। পরে অভিযুক্ত একটি নম্বর প্লেটহীন বাইকে চড়ে সেখান থেকে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সন্ধ্যাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই সেক্টর-৫৮ থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের হয়। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তারপরেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্তের নাম অমিত। প্রায় দুই বছর আগে অমিতের সঙ্গে শিক্ষিকা সন্ধ্যার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই সে সন্ধ্যাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। প্রেমের প্রস্তাবও দেয় ওই যুবক। কিন্তু ন্ধ্যা কখনও তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাননি। তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দিয়েছিলেন সন্ধ্যা। কয়েক দিন আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও, প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।