সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: স্যর এইভাবে কতদিন ক্লাস করতে হবে? আমাদের কথাটাও একটু ভাবুন। এইভাবে ঠাসাঠাসি করে বসে, দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। ইউনিট টেস্টের পর বুধবার প্রথম দিন স্কুল শুরু হতেই বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা এই সমস্যায় পড়েছে। কারণ শিক্ষিক-শিক্ষিকার অভাবে এদিন অনেক স্কুলেই বিভিন্ন সেকশনের পড়ুয়াদের একসঙ্গে ক্লাস করতে হয়েছে।
পাঁচলার আজিম মোয়াজ্জম হাইস্কুলের কথাই ধরুন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই তালিকায় এই স্কুলের চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। ওই নির্দেশের পর স্কুলে ইউনিট টেস্ট চলায় শিক্ষকের অভাব বোঝা না গেলেও এদিন স্কুল খুলতেই সেই সমস্যা প্রকট হয়েছে। শিক্ষকের অভাবে আজিম মোয়াজ্জম হাইস্কুলের অষ্টম ও নবম শ্রেণির বিভিন্ন সেকশনের পড়ুয়াদের একসঙ্গে ক্লাস করতে হয়েছে। ফলে অনেকেই বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম সামসুদ্দিন বলেন, আমাদের স্কুলে ৩ হাজার ৮০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এমনিতেই ১৮ জন শিক্ষকের পদ খালি। তার উপরে আরও চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। ফলে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে স্কুল চালাতে হচ্ছে। তাই একই ক্লাসের বিভিন্ন সেকশনের পড়ুয়াদের একসঙ্গে পড়ানো হচ্ছে। একই ক্লাসরুমে এতজন পড়ুয়াকে একসঙ্গে পড়াতে সত্যিই সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে বাগনান থানা এলাকার ডিএমবি হাইস্কুলেও একই অবস্থা। চাকরি বাতিলের তালিকায় রয়েছেন এই স্কুলের ছ’জন শিক্ষক। এখানেও শিক্ষকের অভাবে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির একাধিক সেকশনের পড়ুয়াদের এক জায়গায় বসিয়ে ক্লাস নিতে হয়েছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উকিলকুমার হাঁসদা বলেন, এদিন পড়ুয়া কম আসায় কোনওভাবে ম্যানেজ করা গিয়েছে। তবে বেশি ছাত্র এলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।