


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানে যুক্ত শিক্ষকদের আবশ্যিকভাবে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর দেশজুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে এই ধরনের শিক্ষকদের মধ্যে। এই অবস্থায় শনিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কাছে পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি যা বললেন, তা আশ্বাসের মতো শোনালেও কার্যত বিজেপির হয়ে প্রচারে নেমে পড়ার আহ্বান। রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়তে শিক্ষকদের এগিয়ে আসার ডাক দেন তিনি। সেই সরকার হলে তবেই তিনি টেট সমস্যা সমাধানে কিছু না কিছু করবেন বলে জানিয়েছেন। স্বভাবতই শিক্ষকদের বড় অংশ হতাশ। এদিকে, বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যা যা অভিযোগ করেছেন, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আটটি পয়েন্ট তুলে ধরে সেগুলি খারিজ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
বিজেপির শিক্ষা সেলের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এই সভা আয়োজিত হলেও দলমত নির্বিশেষে শিক্ষকদের ডাকা হয়েছিল। টেট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী কী বলেন, তা জানতে আগ্রহী শিক্ষকরা প্রচুর সংখ্যায় উপস্থিত হন ই এম বাইপাসের পাশের একটি ক্লাবে। শিক্ষক সেলের অন্যতম নেতা পিন্টু পাড়ুই শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তথ্য দিয়ে জানান, শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী প্রাথমিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় এই শিক্ষকরা আবশ্যিক টেট-এর আওতায় আসবেন না। ২০১৭ সালে বুনিয়াদি শিক্ষা এবং শিক্ষক শিক্ষণের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই তাদের নিয়ম সংশোধন করে এই স্তরের সমস্ত শিক্ষকের জন্য টেট আবশ্যিক করেছে। ফলে আগের শিক্ষকদেরও এর আওতায় আনা ন্যয়সঙ্গত নয় বলেই দাবি পিন্টুবাবুদের। তাহলে এখন উপায় কী? পিন্টুবাবুর যুক্তি, অর্ডিন্যান্স জারি করে এনসিটিই বিধি সংশোধন করলেই এর থেকে শিক্ষকরা মুক্তি পাবেন। এর আগে পিটিটিআই সমস্যার ক্ষেত্রেও এভাবে মুক্তি পেয়েছেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন অর্ডিন্যান্স জারির কথা বললেন না কেন? পিন্টুবাবুর যুক্তি, ‘আদালতের রায় আছে বলেই তিনি ভেঙে কিছু বলতে চাননি। তবে এই প্রথম তিনি কোনো মঞ্চে টেট নিয়ে আশ্বাস দিলেন। তিনি আমাদের যুক্তিও মেনে নিয়েছেন।’ যদিও শিক্ষকদের বক্তব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধান এদিন রাজনৈতিক ভাষণেই বেশি জোর দিয়েছেন। রাজ্যের কত স্কুলে ইন্টারনেট রয়েছে, কত স্কুল বন্ধ, তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। ব্রাত্য বসু সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে সেগুলি তো খারিজই করে দিয়েছেন। বরং তিনি টেট নিয়ে বিস্তারিত বললেই ভালো হত।