Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলাকোবার স্বাদ লাটাগুড়ির চমচমে? চলছে আগাম বুকিং

বোধন থেকে বিজয়া। এই সময় পেল্লায় আকারের চমচমের স্বাদে মাতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি। এক পিস চমচমের ওজন ৮০০ গ্রাম। দাম তিনশো টাকা!

বেলাকোবার স্বাদ লাটাগুড়ির চমচমে? চলছে আগাম বুকিং
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বোধন থেকে বিজয়া। এই সময় পেল্লায় আকারের চমচমের স্বাদে মাতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি। এক পিস চমচমের ওজন ৮০০ গ্রাম। দাম তিনশো টাকা! তবে ৩০০ গ্রাম ওজনেরও রয়েছে। সেগুলির দাম একশো টাকা। কিংবা দু’শো টাকাতেও মেলে ৬০০ গ্রামের চমচম। বেলাকোবার চমচমের সঙ্গে টক্কর দিতে তৈরি হয় লাটাগুড়ির পেল্লায় চমচম। এটিকে ‘ফ্যামিলি প্যাক’ চমচমও বলা হয়। কারণ একটি কিনলেই পরিবারের সবাই মিলে খাওয়া যায়। পুজোয় ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা পর্যটকদের পাতে ওই চমচম তুলে দিতে আগাম বুকিং নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন হোটেল ও রিসর্ট মালিকরা।

Advertisement

এই বিশাল চমচমের ঠিক কেমন অর্ডার আসছে? লাটাগুড়ির মিষ্টি বিক্রেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘পর্যটকদের কাছে বিশেষ করে কলকাতা থেকে যাঁরা ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে বেড়াতে আসেন তাঁদের খুবই পছন্দের আমাদের তৈরি পেল্লায় চমচম। ১৬ সেপ্টেম্বর জঙ্গল খুলতেই পর্যটকরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন গোরুমারায়। অনেকেই বাড়ি ফেরার সময় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া পর্যটকদের দিতে এই মিষ্টি নিয়ে যাচ্ছেন হোটেল, রিসর্ট মালিকরাও।’ তাঁর দাবি, পুজোর দিনগুলি ডুয়ার্সে প্রচুর পর্যটকের বুকিং রয়েছে। বিভিন্ন হোটেল, রিসর্ট মালিকরা পেল্লাই চমচমের আগাম বুকিংও করে যাচ্ছেন।
বেলাকোবার চমচমকে টেক্কা দিতে ২০০৩ সালে লাটাগুড়িতে প্রথমবার তৈরি হয় পেল্লায় আকারের চমচম। ময়নাগুড়ির এক ব্যক্তির অর্ডার অনুযায়ী, ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি চমচম বানিয়েছিলেন গোকুল সরকার নামে এক কারিগর। সেটি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ৬০০ গ্রাম চমচমের খবর চাউর হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই তা অর্ডার করতে থাকেন। এভাবেই শুরু হয়ে যায় পেল্লায় চমচমের পথচলা। এই মিষ্টির স্বাদ জিভে লেগে থাকার রহস্য কী? মিষ্টি তৈরির কারিগর রমেশ রায় বলেন, ‘কাজু, কিসমিস ও খোয়া ক্ষীর দিয়ে তৈরি হয়। না খেলে এর স্বাদ মুখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’
লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, ‘দেশজুড়ে আমরা লাটাগুড়ির চমচমের প্রচার করে চলেছি। পর্যটকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হোটেল, রিসর্ট বুক করার সময়ই পেল্লায় চমচমের বিষয়ে খোঁজখবর করেন পর্যটকরা। তাঁরা যেমন ব্রেকফাস্ট কিংবা ডিনারে এই মিষ্টি খেতে চান, তেমনই পরিবারের সদস্যদের জন্যও নিয়ে যান।’ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গিয়েছে পেল্লায় চমচমের সুখ্যাতি। বাংলাদেশে তো বটেই, এখন মার্কিন মুলুকেও পৌঁছে যাচ্ছে ডুয়ার্সের এই জিভে জল আনা মিষ্টি। -ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ