Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অস্ত্র বিক্রিতেও বেঁধে দেওয়া হতো ‘টার্গেট’, মিলত মোটা ইনসেনটিভ

বিহার থেকে কেনা আট হাজারে। চার হাত ঘোরার পর  নাইন বা সেভেন এম এম পিস্তলের দাম বেড়ে পনেরো হাজার টাকা।

অস্ত্র বিক্রিতেও বেঁধে দেওয়া হতো ‘টার্গেট’, মিলত মোটা ইনসেনটিভ
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহার থেকে কেনা আট হাজারে। চার হাত ঘোরার পর  নাইন বা সেভেন এম এম পিস্তলের দাম বেড়ে পনেরো হাজার টাকা। আর্মস পিছু এক একজন ক্যারিয়ারের লাভ প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।  যত বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ডেলিভারি করা যাবে, লাভের পরিমাণ তত বেশি। টার্গেট পূরণ করলে, মিলত ‘ইনসেনটিভ’। বাড়তি টাকার লোভেই এক শ্রেণীর তরুণের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ঝোঁক বাড়ছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসার রমরমা কেন, তার খোঁজ করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পাচ্ছে লালবাজার। সেই কারণে আগ্নেয়াস্ত্রের এই কারবার শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে চাইছে তারা।

Advertisement

বিগত পাঁচ মাসে কলরকাতা শহরে একের পর আগ্নেয়াস্ত্র ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। সকলেরই বয়স পঁচিশ থেকে  তিরিশের মধ্যে। তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন  নোনাডাঙা এলাকা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই উদ্ধার হয়েছে নাইন বা সেভেন এম এম। বিহার থেকে এগুলি নিয়ে এসে কলকাতা বা পাশ্ববর্তী কোনও জেলায় পাঠানো হতো। ধৃতরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন,আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচার একাধিক সিন্ডিকেট চলছে বিভিন্ন জেলায়। তাদের সঙ্গে রয়েছে অল্পবয়সি যুৱকরা।  যারা বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে ডেলিভারির কাজ করছে।  হাতে হাতে নগদ মেলায় প্রতিদিনই নতুন মুখের সংখ্যা বাড়ছে আর্মস পাচারচক্রে।  তদন্তে উঠে আসছে, এই ক্যারিয়ারদের সিংহভাগই জানে না তাদের মাথা কে! সিন্ডিকেটের মাথা তার অনুগামীদের নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘মাল’ দরকার। সেইমতো ক্যারিয়ারদের মাল আনতে বলা হতো। বিহার থেকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারিদের কাছ থেকে আর্মস নেওয়ার পর, তা আবার একাধিক হাত ঘুরে সিন্ডিকেটের মাথার কাছে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আর্মসের ক্যারিয়ারদের প্রতি মাসের টার্গেট দেওয়া থাকছে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বা কাছাকাছি গেলেও, থাকছে ভালো টাকার ‘উৎসাহ ভাতা বা ইনসেনটিভ’। বাড়তি টাকার লোভে সকলেই বেশিমাত্রায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। একটি কনসাইনমেন্ট ডেলিভারি করেই আবার আর্মস আনতে রওনা হয়ে যাচ্ছে বিহারে। যে কারণে নাইন এম এম বা সেভেন এম এম সাপ্লাইয়ে কোনও ঘাটতি থাকছে না কলকাতা তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। 
নোনাডাঙা থেকে ধৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী  অজিজ মোল্লা ও ময়না মাঝি জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, পাটনা থেকে তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েছিল। সেখানকার এক অস্ত্র ব্যবসায়ী এগুলি তাদের সরবরাহ করেছিল। এক একটি আর্মসের দাম পড়েছিল আট থেকে দশ হাজার টাকা। এরপর সেখান থেকে ট্রেন ধরে বর্ধমানে আসে। তারপর আবার লোকালে চড়ে হাওড়া। এখান থেকে বাস ধরে নোনাডাঙায় এসেছিল।  দুজনের কাছ পাটনার ট্রেনের টিকিট মিলেছে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, তারা বিহার থেকে কলকাতাগামী কোনও ট্রেন ধরলেও, সরাসরি হাওড়া বা শিয়ালদহে নামে না। বাংলায় ঢোকার পর যে কোনও স্টেশনে নেমে যায়। সেখান থেকে বাস বা বারবার লোকাল বদলে গন্তব্যে পৌঁছয়। যাতে তাদের গতিবিধি পুলিস ধরতে না পারে। তাদের কাছ থেকে মিলেছে মোবাইল ফোন। সেখানে একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে বলে খবর। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ফাইল চিত্র  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ