কালীরূপে মা তারার পুজো উপলক্ষ্যে সাজছে তারাপীঠ
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আলোর উৎসবে মেতে উঠতে প্রস্তুত তারাপীঠ। ১৭০১ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে নাটোরের রাজা উদয়নারায়ণের অধীনস্থ জমিদার রামজীবন চৌধুরীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই ইতিহাস। 

Advertisement

তারাপীঠের বাসিন্দাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা মায়ের মধ্যেই সমস্ত দেবী বিদ্যমান। তাই এখানে মা তারা ছাড়া অন্য কোনো দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি পুজো করা হয় না। যুগ যুগ ধরে কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, সরস্বতী, সকল দেবীর আরাধনা এক তারামূর্তিতেই হয়ে আসছে। ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে রানি ভবানীর দত্তক পুত্র রাজা রামকৃষ্ণ রায় ও সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথের হাত ধরে মায়ের রাজবেশে কালীপূজার যে সূচনা হয়েছিল, আজও সেই একই নিয়মে পূজা সম্পন্ন হয়।
এবারের কালীপূজার অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ। পুজো শুরু হবে গভীর রাতে। রবিবার ছুটির দিন থাকায় এবার বিপুল ভক্ত সমাগমের আশা করছে মন্দির কমিটি। ভক্তদের সুবিধার্থে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দির খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানিতে চারিদিক আলোকিত হলেও, প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রেখে সেবাইত বাড়ির মহিলা সদস্যরা মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করবেন মন্দির চত্বর, শ্বেত শিমূলতলা, পঞ্চমুন্ডির আসন, বশিষ্ট ও বামাখ্যাপার সিদ্ধিলাভের স্থান এবং মায়ের পাদপদ্ম। পাশাপাশি, মা তারার স্মৃতিবিজড়িত জীবিতকুণ্ডে প্রদীপ ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা রয়েছে।  অন্যদিকে, মহাশ্মশানে শবদাহ ও তন্ত্রসাধনার যজ্ঞের আলো চারপাশের গম্ভীর ভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। লজ ও হোটেলগুলিও সেজে উঠেছে আলোকমালায়। পুজোর রাতে মাকে কয়েক ভরির স্বর্ণালঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হবে। গর্ভগৃহের ভেতরে একদিকে চলবে চণ্ডীপাঠ, অন্যদিকে তারা অঙ্গে দেবীর কালীর আরাধনা। এই দিন দেবীকে দু’ বার অন্নভোগ দেওয়া হয়।
মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, সকালে স্নানের পর মঙ্গলারতি ও দুপুরে ভোগ নিবেদনের পর সারাদিন দেবীর তারারূপে পূজা হবে। এরপর নিশিরাতে কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ডাকের সাজে দেবীকে সাজিয়ে কালীরূপে পুজো করা হবে। এই বিশেষ ভোগে খিচুড়ি, কারণবারি, বলির পাঁঠার মাংস, মাছ, পাঁচরকম ভাজা, টক, পায়েস ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। কৌশিকী অমাবস্যার মতো এই অমাবস্যারও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচুর ছাগ বলি হয়। 
এদিকে তারাপীঠের পূজার পর প্রাচীন রীতি অনুযায়ী ভোরে সেবাইতরা চলে যাবেন উদয়পুর ও দেখুরিয়া গ্রামের কালীবাড়িতে। সাধক বামাখ্যাপা উদয়পুরের পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে কালী সাধনা করতেন। সেই ঐতিহ্য মেনে সেখানে পূজার্চনা ও ছাগ বলির পর প্রসাদ গ্রহণ করে সন্ধ্যার আগেই তাঁরা তারাপীঠে ফিরে আসবেন।
মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভক্তদের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মন্দিরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি তারাপীঠ থানার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুরো মন্দির চত্বর ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।