Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মণ্ডপসজ্জার মধ্যদিয়ে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে তপনের মিলন তীর্থ ক্লাব

পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়েই এবারের দুর্গাপুজোকে ভিন্নমাত্রায় তুলে ধরতে চলেছে তপন চৌরঙ্গীর অন্যতম বড় পুজো কমিটি মিলন তীর্থ ক্লাব।

মণ্ডপসজ্জার মধ্যদিয়ে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে তপনের মিলন তীর্থ ক্লাব
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মেহেবুব হোসেন সরকার, তপন: পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়েই এবারের দুর্গাপুজোকে ভিন্নমাত্রায় তুলে ধরতে চলেছে তপন চৌরঙ্গীর অন্যতম বড় পুজো কমিটি মিলন তীর্থ ক্লাব। প্রতি বছর জমজমাট আয়োজনে নজর কাড়ে এই পুজো মণ্ডপ। আর এবছর তা আরও বেশি করে আলোচনায় উঠে এসেছে থিমের জন্য। ‘পরিবেশ সচেতনতা ও সমাজ সচেতনতা’ — এই মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে গোটা মণ্ডপ, প্রতিমা থেকে শুরু করে প্যান্ডেল এবং প্রদর্শনী পর্যন্ত।

Advertisement

ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে— বাল্যবিবাহ রোধ, শিশুপাচার রোধ, কৃষিক্ষেত্রে ফসলের নাড়া পোড়ানোর ক্ষতিকর প্রভাব, সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁকের বদলে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং মাদক বিরোধী প্রচার। প্রতিটি বার্তাকে সৃজনশীল উপায়ে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সচেতনতারও যে এক অনন্য বার্তা দেওয়া যায় দুর্গাপুজোর মাধ্যমে, সেটাই প্রমাণ করতে চায় এই পুজো কমিটি।
মিলন তীর্থ ক্লাবের এবছর বাজেট চার লক্ষ টাকা। এবছর তাদের পুজো ৬৭তম বর্ষে পদার্পণ করছে। প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
 পুজো কমিটির সম্পাদক লিটন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমরা চাই দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করুক। তাই এবারের থিমে আমরা সমাজ ও পরিবেশকে একসঙ্গে রেখেছি। 
মানুষকে সচেতন করার জন্য প্যান্ডেলে থাকছে নানা ধরনের প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র ও বার্তাবহ মডেল। সব ধর্মের মানুষ এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। 
পুজো কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য দুলাল বর্মন বলেন, এই থিম শুধু একটি বার্তা নয়, এটি সমাজকে বদলে দেওয়ার এক উদ্যোগ। আমরা চাই এই পুজোর মাধ্যমে সমাজে এক নতুন চিন্তার সূচনা হোক। শিশু ও মহিলাদের সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনের প্রয়াসে আমরা সবাইকে পাশে চাই। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মিলন তীর্থ ক্লাবের এই ধরনের উদ্যোগ প্রতি বছরই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলি নিয়ে ভাবার যে দায়বদ্ধতা, তা এই পুজোর মাধ্যমে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ