


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) প্রতিনিধি হয়ে পরিদর্শনে যাওয়ার আগে নিজের কলেজ ও হাসপাতাল থেকে কোনও অনুমতিই নিতেন না ডাঃ তপনকুমার জানা। তাঁর কর্মস্থল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য কোনও প্রফেসর বা বিভাগীয় প্রধানের বদলে প্রতিবার এনএমসির অ্যাসেসর বা মূল্যায়নকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হত তাঁকেই। তাই তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তপনবাবুর ঘটনাটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এর পিছনে সম্ভবত একটি চক্র সক্রিয়। বিভিন্ন রাজ্যের বেশ কিছু শিক্ষক-চিকিৎসক এই চক্রে থাকতে পারেন।
সিনিয়র শিক্ষক চিকিৎসক মহলের একাংশ মনে করছে, এনএমসির পদাধিকারীরা এসবের কিছুই জানেন না, এমনটা হওয়া কঠিন। যিনি একবার ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তিনি আগে এমনটা করেননি, তার কি গ্যারান্টি আছে! প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দিতে ‘ঘুষ’ খাওয়ার অভিযোগ সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বাঙালি সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠেনি। ২০১০ সালে এমনই গুরুতর অভিযোগে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন অত্যন্ত প্রভাবশালী স্বাস্থ্য প্রশাসক ও তৎকালীন এমসিআই সভাপতি ডাঃ কেতন দেশাই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এনএমসির এক প্রাক্তন ‘অ্যাসেসর’ বলেন, ‘বাঙালি পরিদর্শকরা সৎ এবং নিয়মনিষ্ঠ বলে দেশজুড়ে সম্মান ছিল। সেই সুনামে কালো দাগ পড়ে গেল।’
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ অমিত দাঁ রবিবার বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় চার বছর অধ্যক্ষ আছি। একবারের জন্যও তপনবাবু অ্যাসেসরের কাজের জন্য স্টেশন লিভের অনুমতি নেননি। অথচ এই অনুমতি বাধ্যতামূলক।’ এদিকে, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারির খবর জানার পর অ্যানাটমিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ডাঃ জানাকে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ডাঃ অভিজিৎ ভক্ত বলেন, ‘কেন ওঁকে আমাদের সংগঠন থেকে বের করে দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হবে।’
সিবিআই সূত্রের খবর, কর্ণাটকের বেলগাঁওয়ের এক মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজ চালুর জন্য সম্প্রতি এনএমসির কাছে আবেদন করেছিল। তপনবাবুকে পরিকাঠামো পরিদর্শনের দায়িত্ব দেয় এনএমসি। অভিযোগ, ডাঃ জানা কলেজকর্তাদের বলেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা পেলে কলেজের পক্ষে দারুণ রিপোর্ট তৈরি করে দেবেন তিনি। ওই কর্তৃপক্ষের অন্য একটি মেডিক্যাল কলেজে আসনসংখ্যা বাড়ানোর অনুমতি এবং কলেজটি যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অনুদান পায়, সেই ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। এরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ জানায়। ডাঃ জানা ছাড়া আরও যে দুই ব্যক্তির নাম এফআইআরে রয়েছে, কর্ণাটকে তাঁদের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, ছাত্রছাত্রীদের বড় অংশের সঙ্গে ডাঃ জানার খুব একটা সদ্ভাব নেই। ন্যাশনাল, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ প্রভৃতি জায়গায় তিনি কাজ করে এসেছেন। তারপর প্রায় ১০ বছর ধরে রয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে।