নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘তোর স্বামীকে কালা জাদু করা হয়েছে। যে কোনও দিন হৃদরোগে মারা যাবে।’ তান্ত্রিকের এই কথায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন নিউ বারাকপুরের গৃহবধূ। স্বামীর জীবন রক্ষার উপায় জানতে চেয়েছিলেন তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক জানায়, প্রতি সপ্তাহে মহাযজ্ঞ করতে হবে। এইভাবে কয়েক মাসে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তান্ত্রিক। বিষয়টি কেউই জানতে পারেনি। কিন্তু গয়না বন্ধক দিতেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝে চলতি মাসের প্রথমে থানার দারস্থ হন গৃহবধূ। সুব্রত রায় নামে অভিযুক্ত তান্ত্রিককে নিউ বারাকপুর থানার পুলিস মন্দারমণির হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের বাড়ি খড়গপুর শহরে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
নিউ বারাকপুরের কামারশালা বটতলার বাসিন্দা মিতা নাগ। তাঁর স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। কয়েক বছর আগে তিনি অসুস্থ হন। বহু জায়গায় চিকিৎসা করার পরও সুস্থ হচ্ছিলেন না। গৃহবধূর বোনের বাড়ি গড়বেতা। সেখানে গিয়ে তিনি সমস্ত ঘটনা বলেন। সেখানেই তান্ত্রিক সুব্রত রায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। ভণ্ড তান্ত্রিক তাঁকে স্বামীর মৃত্যুভয় দেখিয়ে যজ্ঞের পরামর্শ দেয়। এবং পরিবারের কাউকে জানাতে বারণ করেন। এরপর চুপিসারে গৃহবধূ বোনের বাড়ি যাওয়ার নামে তান্ত্রিকের কাছে যেতেন। যজ্ঞের নাম করে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সুব্রত। এরপর আরও টাকা চাইলে গৃহবধূ সোনার গয়না বন্ধক দিতে স্থানীয় দোকানে যান। দোকানদার গৃহবধূর স্বামীকে বিষয়টি জানান। স্বামীর চাপে মহিলা সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝে গৃহবধূ স্বামীকে নিয়ে খড়্গপুরে তান্ত্রিকের বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত চান। তান্ত্রিক প্রথমে টাকা ফেরত দেবে জানালেও মোবাইলের সুইচ বন্ধ করে বাড়ি থেকে চম্পট দেয়। এরপর চলতি মাসের প্রথমে গৃহবধূ নিউ বারাকপুর থানার দারস্থ হন। পুলিস বুধবার রাতে মন্দারমণিতে তান্ত্রিকের টাওয়ার লোকেশন পেয়ে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে নিউ বারাকপুরে নিয়ে আসা হয়। ধৃতকে জেরা করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিস।