Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিনেমা, রেস্তরাঁয় খাওয়া, বাবুঘাটে বোটিং, মৃত্যুর প্ল্যান ছকে রোমির সঙ্গে শেষ ভ্যালেন্টাইন্স ডে প্রসূনের

সিনেমা, রেস্তরাঁয় খাওয়া, বাবুঘাটে বোটিং, মৃত্যুর প্ল্যান ছকে রোমির সঙ্গে শেষ ভ্যালেন্টাইন্স ডে প্রসূনের
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৃত্যুর প্ল্যান চূড়ান্ত। দিনক্ষণও। দু’জনেই তখন জেনে গিয়েছেন, এই জীবন আর ফিরে আসবে না। ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটাও নয়। তাই শেষবারের মতো নিজেদের ‘কোয়ালিটি টাইম’ দিতে বেরিয়ে পড়েছিলেন প্রসূন ও রোমি। দে পরিবারের ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী। প্রথম জন ট্যাংরা কাণ্ডে খুনে প্রধান অভিযুক্ত। আর দ্বিতীয়জন তাঁরই শিকার। কিংবা বলা যায়, গণ আত্মহত্যার চিত্রনাট্যের এক কুশীলব। ১৪ ফেব্রুয়ারি দু’জনে বেরিয়ে পড়েছিলেন গাড়ি নিয়ে। শর্ট ট্রিপ। সিনেমা, খাওয়া-দাওয়া এবং নৌকা বিহার—রোমির কোনও ভালোলাগাই বাদ রাখেননি প্রসূন। এখন সেই স্মৃতি হাতড়েই ভেঙে পড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতে গোপন জবানবন্দি দেবেন তিনি। দোষ স্বীকার করবেন। এদিন তাঁকে আদালতে তোলা বলে বিচারক ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠান।

Advertisement

তদন্তকারী অফিসাররা জেনেছেন, সেদিন দুপুর নাগাদ রওনা দিয়েছিলেন দু’জন। গাড়ির চালাচ্ছিলেন প্রসূন। পাশের সিটে রোমি। প্রথম গন্তব্য ছিল সল্টলেক সিটি সেন্টার। সেখানে সিনেমা দেখে সোজা বাবুঘাট। ফুচকা খেয়ে উঠে পড়েছিলেন নৌকায়। শেষবার বোট রাইডের আনন্দ নেওয়ার জন্য। অনেকক্ষণ গঙ্গার বুকে কাটিয়ে রেস্তরাঁয় ডিনার সেরে বাড়ি ফিরেছিলেন তাঁরা। প্রসূনের দাবি, প্রণয়কেও যেতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু দাদা বা বউদি সুদেষ্ণা, কেউই রাজি হননি। তাঁরা বাড়িতেই ছিলেন। প্রথমে কিন্তু চারজনের আত্মহত্যারই প্ল্যান ছিল। প্রসূন জানিয়েছেন, মেয়ে প্রিয়ংবদা ও ভাইপোকে শ্বশুরমশাই, অর্থাৎ রোমির বাবার কাছে রেখে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম। ফিরে এসে পায়েস খেয়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রণয় মনে করিয়ে দেন, রোমির বাবা সামান্য পেনশনে জীবন ধারণ করেন। কীভাবে দুই কিশোর-কিশোরীর খরচ চালাবেন? ছেলেমেয়ের পক্ষেও আচমকা লাইফ স্টাইল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তাই ওদেরও ‘সঙ্গে নিতে হবে’। তদন্তকারীদের কাছে প্রসূনের দাবি, শুধু পায়েসই নয়, প্রসাদ হিসেবে ঠাকুরকে দেওয়া সন্দেশেও ওষুধ মেশানো হয়েছিল। পুজোর পর সেই সন্দেশ ভেঙে তুলসী পাতা ও ওষুধ মিশিয়ে ছোট ছোট গুলি বানান প্রণয়। সেগুলো বাড়ির সবাইকে খাওয়ানো হয়। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি। প্রসূনকে জেরা করে অফিসাররা জেনেছেন, প্রিয়াংবদাকে খুন, রোমি ও সুদেষ্ণার হাতের শিরা কাটার পর দুপুরে আবার তিনজন ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘুম ভেঙে যায়। এরপরই তাঁরা গাড়ি দুর্ঘটনাকে বেছে নেন।
এদিন আদালতে সরকারি আইনজীবী বলেন, উনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করতে চান। বিচারক প্রসূনকে ডেকে পাঠান। প্রশ্ন করেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দোষ স্বীকার করবেন? দে পরিবারের ছোট ছেলে বলেন, ‘হ্যাঁ।’ এরপর বিচারকের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার আর কিছু বলার আছে?’ তখন মাথা নেড়ে না বলেন প্রসূন। দু’দিন পুলিস হেফাজতে থাকাকালীন কোনও অসুবিধা হয়েছে কি না, তাও জানতে চান বিচারক। সেক্ষেত্রেও ‘না’ বলেন অভিযুক্ত। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, বয়ানে যা যা লেখা আছে, সে ব্যাপারে তাঁকে কেউ জোর করেছে কি না। তখনও নেতিবাচক উত্তরই দেন প্রসূন। বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করতে চাই। আদালত জানায়, জেলে যাওয়ার পর দু’দিন সময় পাবেন। পুরো বিষয়টা ভেবে নিন। তারপর আপনার কথা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ