Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সন্ধ্যা ৬টাতেও চিকিৎসক হাজির না হওয়ায় মর্গের সামনে বিক্ষোভ

শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা। তখনও ময়না তদন্তের জন্য তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে চিকিৎসক হাজির হননি।

তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সন্ধ্যা ৬টাতেও চিকিৎসক হাজির না হওয়ায় মর্গের সামনে বিক্ষোভ
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা। তখনও ময়না তদন্তের জন্য তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে চিকিৎসক হাজির হননি। সকাল থেকেই পিংলা, চণ্ডীপুর, পাঁশকুড়া থেকে মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের লোকজন মর্গের সামনে হাজির। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পরও ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের দেখা নেই। দেহ ময়না তদন্তের পর বাড়ি নিয়ে গিয়ে অন্তিম কাজকর্ম সারতে হয়। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন হাজির। অথচ ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত দেহ দিয়ে মর্গে ঠায় বসে রইলেন তপন ঘড়া, সুশান্ত জানারা। এদিন হাসপাতালে ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিতে নন্দকুমার থানার সাব ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তমলুক মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল শর্মিলা মল্লিক বলেন, আমি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার চিকিৎসক পিকে সিংয়ের ময়না তদন্ত করার কথা ছিল। দুপুরের মধ্যেই পাঁশকুড়ার কেশাপাট গ্রামের সুমন ঘড়া বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে, পথ দুর্ঘটনায় মৃত চণ্ডীপুরের চাকনান গ্রামের তপন দে ও পিংলা থানার মালিগ্রামের কাজলরানি জানার দেহ মর্গে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন থেকেই পরিবারের লোকজনের অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু। সুমনের জ্যেঠু বলেন, মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর দেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সৎকারের প্রস্তুতি নিতে হয়। এখানেই যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় তাহলে বাড়ি ফিরব কখন? নিহত কাজলরানি জানার আত্মীয় সুশান্ত জানা বলেন, মৃতের পরিবারের লোকজনের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেটা এখানে না এলে জানতাম না। এই ব্যবস্থার বদল প্রয়োজন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টা নাগাদ তিন মৃতের পরিবারের লোকজন হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পোস্ট মর্টেম কখন হবে, তা জানতে চান। হাসপাতাল সুপার কর্তব্যরত ময়না তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু, সন্ধ্যা ৬টাতেও ডাক্তার পৌঁছননি। অনেকে বলছেন, তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রোজ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কর্তৃপক্ষেরও কোনও হেলদোল নেই। বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে জরুরিভিত্তিতে ময়না তদন্ত হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ভোগান্তি সইতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। 
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি খেজুরির জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এই হাসপাতালের ময়না তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। এখানে দু’জনের মৃত্যুর কারণ ইলেক্ট্রিক শক বলে উল্লেখ করা হলেও এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়না তদন্তে শরীরে আঘাতের কারণে মৃত্যু বলে জানানো হয়। এজন্য ময়না তদন্তকারী অফিসারের মোবাইলের কল-ডিটেলস সংগ্রহ করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ