সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পুজোর কয়েকটা দিন বাকি। বাজারে নতুন পোশাকের সম্ভার। শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়, অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। আর উৎসবের মরসুমেও মনমরা দর্জিদের মুখ। একসময় দর্জিদের পুজোর দেড়-দু’মাস আগে থেকে নতুন জামা-প্যান্ট তৈরির বরাত সামলাতে নাভিশ্বাস উঠত। এখন উৎসবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও তাঁদের কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। রেডিমেড পোশাকের জনপ্রিয়তায় ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে দর্জিদের তৈরির পোশাকের বাজার।
দুর্গাপুরের বেনাচিতি ও চণ্ডীদাসে দর্জিদের সেই পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। ১৯৯৮ সাল থেকে দর্জির পেশায় যুক্ত বেনাচিতির শাহনাওয়াজ মিদ্দা, তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ক্রেতাদের পোশাক কেনার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। পুজোর আগে কাপড় কিনে পছন্দমতো জামা-প্যান্ট তৈরি করানোর চল ছিল। এখন সরাসরি রেডিমেড তৈরি পোশাক কিনছেন। তিনি আরও বলেন, আগে পুজোর সময় অর্ডার সামলাতে রাতের পর রাত কাজ করতে হত। এখন পোশাক তৈরির বরাত অনেক কম। অনেক ক্রেতা রেডিমেড জামাকাপড় কিনে ফিটিং করাতে আসছেন। সংসার খরচ বাড়লেও অনুপাতে রোজগার বাড়ছে না। একই অভিজ্ঞতা বেনাচিতির দর্জি রানা কাবাশীর। তিনি বলেন, পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিতে হত। এখন পুজো এসে গেলেও দোকানে ব্যস্ততা নেই। অনলাইনের একটার সঙ্গে একটা ফ্রি, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়। ওই পোশাকের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, একটা জমা বা প্যান্ট সেলাই করে ৩২০ থেকে ৪৩০ টাকা পাওয়া গেলেও বিদ্যুৎ বিল, সুতোর খরচ সহ আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে সামান্য অর্থ। আবার চণ্ডীদাস বাজারের দর্জির দোকান শাহবাজ খান বলেন, এখন আর আগের মতো কাপড় কিনে জামা-প্যান্ট বানানোর চল নেই। কিছু প্রবীণ অবশ্য এখনও তৈরি পোশাক পছন্দ করেন। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা নির্মল চক্রবর্তী বলেন, পুজোয় নিজের পছন্দের কাপড় কিনে মাপমতো জামা তৈরি করানোর আনন্দই আলাদা। দর্জিদের দাবি, সরকারি সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কিছুটা সুরাহা হতে পারে।



