নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ধমান রেল স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছিল চারজন যাত্রী। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তারপরই পূর্ব রেলের অধীনে থাকা সমস্ত পুরনো লোহার ও সিমেন্টের জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। স্টেশন চত্বর কিংবা প্ল্যাটফর্মে অবস্থিত এমন ৬০টি জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে পদক্ষেপ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় রেল। তারপর এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত। নতুন জলের ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ তেমনভাবে এগয়নি বলে অভিযোগ। তাই নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কগুলির অধিকাংশই ৬০ বছরের বেশি পুরনো। এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের এক কর্তা বলেন, ওই দুর্ঘটনার পর তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বেশকিছু ঘোষণা করেছিলেন। তার সার্বিক বাস্তবায়ন হয়নি। গোটা রেল জোনে ভগ্নপ্রায় জলের ট্যাঙ্কের সমীক্ষা করে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তৈরি করে অডিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
Advertisement
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, চারটি ডিভিশনের মধ্যে ১২টি লোহার জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেই ট্যাঙ্কের সংখ্যা, হাওড়ায় ৩টি, আসানসোলে ৮টি এবং মালদহে ১টি। এছাড়া ৪৮টি সিমেন্টের জলাধার রয়েছে। যেগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় হয়েছে। তার মধ্যে শিয়ালদহ ডিভিশনে ৭টি, আসানসোল ডিভিশনে ২৩টি, হাওড়া ডিভিশনে ১৪টি এবং মালদহ ডিভিশনে ৪টি ট্যাঙ্ক সেই তালিকায় রয়েছে। অথচ রেলের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য কমিটির (পিএসি) সদস্যদের ব্যর্থতায় কাজ সেভাবে হয়নি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।



