নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জেলার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে আগামী দিনে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে ৫২ হাজারেরও বেশি। জেলাজুড়ে ক্লাস্টারগুলিকে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ দেওয়ার পাশাপাশি পুনরুজ্জীবিত করা হবে মেটাল ফেব্রিকেশন ক্লাস্টারকেও। সোমবার হাওড়ার শরৎসদনে এমএসএমই দপ্তর আয়োজিত একাদশতম সিনার্জিতে জেলার নতুন উদ্যোগপতিরা দেখলেন আশার আলো। প্রতিশ্রুতি পূরণে ইতিমধ্যেই চলতি আর্থিক বছরে তাঁদের জন্য ৪ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।
এদিন শরৎসদনে এমএসএমই দপ্তরের সিনার্জি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। ছিলেন রাজ্য ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগমের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ও তিন বিধায়ক। প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমএসএমই ও বস্ত্রদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজেশ পান্ডে, এমএসএমই ডিরেক্টরেটের অধিকর্তা ইউ স্বরূপ, হাওড়ার জেলাশাসক পি দিপাপপ্রিয়া সহ অন্যান্যরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৫০ জন উদ্যোগী এদিন অংশগ্রহণ করেন সিনার্জিতে। তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ছাড়পত্র সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ২০টি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছিল। ২০ জন উদ্যোগপতির হাতে এদিন সরাসরি ভূমি, দূষণ, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র ও ব্যাংক লোনের অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হয়।
বর্তমানে হাওড়া জেলায় রাবার পার্ক, ফুড প্রসেসিং পার্ক, ফাউন্ড্রি পার্ক, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক, জরি হাব মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি ক্লাস্টার রয়েছে। নামীদামি সংস্থা বাদেও বহু ছোট ছোট নতুন স্থানীয় সংস্থাও যুক্ত হয়েছে ক্লাস্টারগুলিতে। এর ফলে গত কয়েক বছরে বালিটিকুরি, অঙ্কুরহাটি, সাঁকরাইল, জগৎবল্লভপুর, উলুবেড়িয়ায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ক্লাস্টারগুলিতে কীভাবে কর্মসংস্থান আরও বাড়ানো যায় এবং নতুন উদ্যোগপতিরা ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নিয়ে সিনার্জির দ্বিতীয় পর্বে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শিল্প সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমএসএমই দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পান্ডে বলেন, ‘সাঁকরাইলের জরি হাবকে ৪৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দু’টি অত্যাধুনিক মেশিন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জগৎবল্লভপুরের ইমিটেশন জুয়েলারি ক্লাস্টারের উন্নয়নে ২৬ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন করে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ বন্ধ হয়ে যাওয়া মেটাল ফেব্রিকেশন ক্লাস্টারকে পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে হাওড়াকে এক সময়ের শেফিল্ড অফ ইস্টের তকমা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। নিজস্ব চিত্র