নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের পর রাজ্যজুড়েই ধরপাকড় চলছে। এই অবস্থায় তোলাবাজির অভিযোগে বিদ্ধ বহুচর্চিত নিউটাউনের সিন্ডিকেটের অবস্থা কেমন? কোথায় আছেন সিন্ডিকেটের মাথারা? কি করছেন?
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের পর রাজ্যজুড়েই ধরপাকড় চলছে। এই অবস্থায় তোলাবাজির অভিযোগে বিদ্ধ বহুচর্চিত নিউটাউনের সিন্ডিকেটের অবস্থা কেমন? কোথায় আছেন সিন্ডিকেটের মাথারা? কি করছেন?
কমকরে ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভার। ১৬ হাজারেরও বেশি যুবক যুক্ত। প্রায় ৪০ কিমি এলাকাজুড়ে কারবারের বিস্তৃতি। গুলি, বোমা এবং ভয়, এই হচ্ছে এই সাম্রাজ্যের মূল ভিত্তি। বেশি দামে খারাপ নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে মোটা টাকা মুনাফা দাদাদের। এই মিলিয়েই হল নিউটাউনের সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষ তো বটেই দাদাদের হুমকিতে কাঁপে বড়ো আকারের ব্যবসায়িক সংস্থা পর্যন্ত। দাপট এতটাই।
কয়েকবছর আগের ঘটনা। থাকদাঁড়ির অদূরে এক সিন্ডিকেট দাদার বাড়ি হামলা চালায় অন্য পক্ষ। মুহুর্মুহু গুলি চলে। সে রাতের ঘটনা গ্যাংস অব ওয়াসেপুর সিনেমার গল্পের মতো রোমাঞ্চকর। অভিযোগকারী জানান, প্রায় ৫০ রাউন্ড ফায়ার হয়েছিল। ঘটনাস্থলে দুপুরে অবধি ছড়িয়ে ছিল কার্তুজের খোল। এক-একটা প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা।
সিন্ডিকেটের উপর প্রথম আঘাত ২০১৬ সালে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত তখন তৃণমূলের নেতা সব্যসাচী দত্ত বলেন, সিন্ডিকেট বন্ধ কখনই হবে না। তবে তারপর প্রকাশ্যে হুমকি বন্ধ হয়। পিছন থেকে ব্যবসা চালাতে থাকে দাদারা। সেই সাম্রাজের উপর বড়ো আঘাতটা এসেছে সম্প্রতি। সিন্ডিকেটের ত্রাস একাধিক দাদা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সিন্ডিকেট নড়বড় করতে শুরু করেছে। যে ক’জন এখনও রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ক’দিন আগেও বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত যে দাদাদের হুমকিতে তাঁদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, জামিনও পেয়েছেন।
সম্প্রতি টেকনো সিটি থানা ধরে রাজারহাট পঞ্চায়েতের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বাহার আলি লস্কর, পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের আতিয়ার মোল্লা, লস্করহাটির তৃণমূল নেতা কাবিল লস্কর, সাবির আলি লস্কর (বাহারের ভাই), তেঘরিয়া এলাকার সাবির হোসেন, লস্করআটির নাসিমুল লস্কর। দ্বিতীয় দফায় নিউটাউন থানার হাতে গ্রেপ্তার জ্যাংড়া-হাতিয়ারা (টু) পঞ্চায়েতের প্রধান রীতা গায়েন। তারপর বালিগড়ি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য কমল মণ্ডল। এরা ছাড়াও কয়েকজন আছেন যাঁরা ধরা পড়লে সিন্ডিকেটের কোমর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে বলে মানুষ মনে করেন।
পুলিশ এবং রাজারহাট-নিউটাউনের স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণপুরে সিন্ডিকেটের মাথা বিধাননগর পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক নেতা। থাকদাঁড়ি এলাকার সিন্ডিকেট কন্ট্রোল করেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের এক অনুগামী। জ্যাংড়ার দখল একজনের হাতে। চিনার পার্ক এলাকায় সিন্ডিকেট সামলান এক প্রাক্তন কাউন্সিলার। পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের এক পদাধিকারি এবং অন্য এক পদাধিকারির স্বামীও সিন্ডিকেটের দাদা। আর রাজারহাট-বিষ্ণুপুর (এক) পঞ্চায়েতের এক পদাধিকারি নিজের এলাকা সামলান।
বর্তমানে সিন্ডিকেট চলার নিয়ম, সাইটে সামগ্রী ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করে সিন্ডিকেট। সেটিই কার্যত পারমিশন লেটার। এখনও পুরনো নিয়মে সামগ্রী ডেলিভারির ৪৫ দিন পর পেমেন্ট। দাদাদের মধ্যে সংঘাত যাতে না হয় তা দেখে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক মহল। তবে সম্প্রতি সিন্ডিকেট কার্যত গর্তে ঢুকেছে। আবার কবে বেরয় বা আদৌ বেরতে পারে কি না, তার দিকে নজর গোটা রাজ্যের।