


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বর থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হলেও সরল না জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতাল থেকে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দিব্যি সেখানে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। কোনো কোনো চালক আবার হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই অ্যাম্বুলেন্স ধোয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার পরও জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতাল থেকে কেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরানো হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে আমরা সমস্ত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বের করে দিয়েছি। সদর হাসপাতাল চত্বরেও কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেব না। সুপারের দাবি, সদর হাসপাতালের গা ঘেঁষে রয়েছে ফার্মাসি কলেজ। কিছু চালক ফার্মাসি কলেজের জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রাখছেন। কিছু বলতে গেলে বলছেন, আমরা তো আপনাদের হাসপাতালের জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স রাখিনি। পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে কীভাবে ওই অ্যাম্বুলেন্সগুলিকে সেখান থেকে সরানো যায়, সেটা দেখছি আমরা।
এদিকে, জলপাইগুড়ি মেডিকেলে এতদিন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেটরাজ চলেছে কার মদতে? রাজ্যে পালাবদল হতেই এনিয়ে আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি তপন দে বনাম সংগঠনের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্রের বিরোধ প্রকাশ্যে।
তপনের দাবি, আইএনটিটিইউসি’র নাম করে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে যে অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট চালানো হত, তাতে আমার অনুমোদন ছিল না। সংগঠনের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি পুণ্যব্রত ওরফে ডাব্বু ওই ইউনিট চালাতেন। এখানেই থামেননি তপন। তাঁর দাবি, মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে যে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বেশি ভাড়া চাওয়া হত, তা নিয়ে অতীতে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। সেসময় আমি তাঁদের বলেছি এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান।
পুণ্যব্রত মিত্রের বক্তব্য, মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট আমি খুলেছিলাম ঠিকই। কিন্তু সেখানে কোনো সিন্ডিকেট চলত না। সংগঠনের জেলা সভাপতি বলছেন, মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের ব্যাপারে তাঁর কোনো অনুমোদন ছিল না। এটা এতদিন বলেননি কেন তিনি?
সংগঠনের জেলা সভাপতির অনুমোদন ছাড়া কীভাবে মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট খোলা হয়েছিল তা নিয়ে পুণ্যব্রত মিত্রের বক্তব্য, আইএনটিটিইউসি’র যিনি জেলা সভাপতি রয়েছেন, দলের তরফে ঘোষিত ব্লক সভাপতিকে না জানিয়ে তিনিও অনেক সময় ইউনিট খুলেছেন। ফলে সংগঠনের জেলা সভাপতির কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না।
জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজটি শহরের বাইরে রাজগঞ্জ বিধানসভার অধীন পাহাড়পুর পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি কীভাবে সেখানে ইউনিট খুলে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের ‘কর্তা’ হয়ে উঠেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এনিয়ে আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতির দাবি, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছিল পুণ্যব্রতর মাথায়। সেকারণে টাউন ব্লক সভাপতি হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন তিনি। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঋতব্রতকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মেসেজেরও জবাব দেননি।