


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে ২২ দফা প্রশ্ন তুললেন সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ। মঙ্গলবার বিধায়ক মেডিকেলের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায়, সুপার ইন্দ্রা দত্তর সঙ্গে বৈঠকও করেন। ঘুরে দেখেন হাসপাতাল চত্বর। ইন্ডোর বিভাগে গিয়ে কথা বলেন রোগীদের সঙ্গে। পরে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে নানা অনিয়ম নিয়ে ২২ দফার প্রশ্নমালা পেশ করেন।
বিধায়ক বলেন, বিগত সরকারের আমলে মেডিকেলে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। তা আর চলবে না। স্বচ্ছতা ও মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। সেইজন্য এদিন হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি। বিগত দিনে হাসপাতালে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড অপরিছন্ন থাকে। সেসব যাতে আর না হয়, সেই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে। তারসঙ্গে ২২ দফা প্রশ্ন মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
এদিন বিধায়কের সঙ্গে ছিলেন আরামবাগ শহর মণ্ডলের সভাপতি সুমন তেওয়ারি, উপাসক দে সহ অন্যান্য বিজেপির নেতাকর্মীরা। তাঁরা সকালে আউটডোরে টিকিট কাউন্টার, ওপিডি বিভাগ, সিসি টিভি কন্ট্রোল রুম সহ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও যান। তারপর অধ্যক্ষর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিধায়কের দাবি, আমাদের সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনো আপোষ করবে না। সেইজন্য আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গরিব মানুষের কাছে একমাত্র ভরসার জায়গা। এখানে রোগীরা যাতে পরিছন্ন ও সুস্পষ্ট পরিষেবা পান তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিধায়কের অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল, ওপিডির টিকিট কাউন্টারে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কেন? ক’টি কাউন্টার চালু রাখার কথা? আউটডোরে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় কখন? বাস্তবে কখন থেকে দেখা শুরু হয়? অনেক সময় প্রসূতিদের রাতের বেলা ঘুরিয়ে দিয়ে হয়রানিতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। ইমার্জেন্সি বিভাগে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে অনেক সময় দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক এদিন মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে দালাল রাজ প্রসঙ্গেও অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া মর্গে ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারেও অভিযোগ তুলেছেন।
বিজেপি নেতাদের দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলি নিয়মিত পরিছন্ন করা হয় না। তার জেরে দুর্গন্ধে ভরে যায় পরিবেশ। সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কর্মী লাগিয়ে পরিছন্ন করতে বলা হয়েছে। রক্ত সংকটেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। কর্তব্যে কারো গাফিলতি থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই ব্যাপারে আরামবাগ মেডিকেলের অধ্যক্ষ বলেন, বিধায়ক এদিন এসেছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছি। তাঁদের তরফে দেওয়া বিভিন্ন দাবি দাওয়া খতিয়ে দেখা হবে। এই ব্যাপারে আমরা এদিনই একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেছি। আগামী দিনে হাসপাতালের পরিকাঠামো, কর্মী নিয়োগে বিধায়ক সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল বছর কয়েক আগেই মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। তৈরি হয়েছে একাধিক সুউচ্চ ভবন। কিন্তু হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সময় রোগীর আত্মীয়রা নানা অভিযোগ তুলেছেন।