নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট: নতুন উদ্বেগের নাম সোয়াইন ফ্লু। এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সবথেকে খারাপ অবস্থা দিল্লির। রাজধানীতে এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৮। যা গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এছাড়া বেঙ্গালুরুতেও আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। সেই সংখ্যা ৪০০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকার। এছাড়া মুম্বই, চেন্নাই, কেরলমেও অনেকের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
আইসিএমআর-এর পরামর্শ
যদিও এই মরসুমি ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণ নিয়ে অহেতুক উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি প্রত্যেকের টিকাকরণের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। সংস্থার প্রধান ডঃ রাজীব বাহলের মতে, ভারতে ছড়িয়ে পড়া এইচওয়ানএনওয়ান হল সাধারণ মরশুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি স্ট্রেইন। যা মোটেই নতুন নয়। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির জরুরি প্রয়োজন না হলে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধেরও দরকার নেই। কারণ বেশিরভাগ রোগীর প্রভাব খুব মৃদু। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর টেস্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কাদের ঝুঁকি বেশি
আইসিএমআর-এর ডিজি ডঃ রাজীব বাহলের বক্তব্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এমন ৬৫ বছরের বেশি বয়সি কিছু ব্যক্তির ঝুঁকি বেশি। ফলে তাঁদের এই টিকা প্রয়োজন।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সোয়াইন ফ্লুর সাধারণ কিছু উপসর্গ
> হঠাৎ জ্বর বা জ্বর জ্বর ভাব
> শুষ্ক বা ক্রমাগত কাশি
> স্বরভঙ্গ
> নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
> মাথা ব্যথা
> পেশি বা জয়েন্টে ঘা বা ব্যথা
> শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
> ক্লান্তি বা দুর্বলতা
> কিছু ক্ষেত্রে বমি বা ডায়ারিয়া (শিশুদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা যায়)
উপসর্গগুলি সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১ থেকে ৪ দিন পর শুরু হয়। বেশিরভাগ মানুষ প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও কাশি এবং ক্লান্তি আরো বেশ কিছুদিন থাকতে পারে।