সংবাদদাতা, লালবাগ: চলতি বছরের শেষদিকে জিয়াগঞ্জবাসীর বহু প্রতীক্ষিত সুইমিংপুল চালু হতে চলেছে। ২ কোটি ২০লক্ষ টাকা খরচে জিয়াগঞ্জ টাউন সেন্টারের পাশেই এই সুইমিংপুল গড়ার কাজ চলছে। মুর্শিদাবাদের সাংসদের তহবিলের টাকায় ৮০শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুইমিংপুল তৈরির কাজ পরিদর্শন করেন জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ ও ভাইস চেয়ারম্যান মলয় রায়।
প্রসেনজিৎবাবু বলেন, জিয়াগঞ্জ শহরে আধুনিক মানের সুইমিংপুলের দাবি বহুদিনের। মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানের কাছে এই দাবি পৌঁছে দেওয়া হলে তিনি গতবছর জানুয়ারিতে সুইমিংপুলের জন্য টাকা বরাদ্দ করেন। সেটি তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। আশা করছি, বছর শেষের আগেই পুর এলাকার বাসিন্দাদের সুইমিংপুল উপহার দিতে পারব।
চেয়ারম্যান জানান, জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা প্রয়াত লোকো পাইলট গঙ্গেশ্বর মাল একজন দক্ষ সাঁতারু ও প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি জিয়াগঞ্জ শহরে সুইমিং পুলের জন্য একাধিকবার দরবার করেছিলেন। গঙ্গেশ্বরবাবুকে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু, রেল দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর জেরে তা আর হল না।
সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার তরফে সুইমিংপুলের জন্য অর্থসাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেইমতো সাংসদ তহবিল থেকে টাকা দিয়েছি। সুইমিংপুল চালু হলে দুই শহরের ছেলেমেয়েরা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সাঁতার শিখতে পারবে।
জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জ শহরের মাঝ দিয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। সেই কারণে এই দুই শহরের বাসিন্দাদের সাঁতার জানার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, এতদিন এখানে সুইমিংপুল ছিল না। জিয়াগঞ্জবাসী প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সাঁতার শেখার জন্য বহুদিন ধরে সুইমিংপুলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবি মেনে পুরসভা জিয়াগঞ্জ টাউন সেন্টার লাগোয়া দুই বিঘা আয়তনের জলাশয়ে সুইমিংপুল গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়। এজন্য অর্থসাহায্য করেন সাংসদ।
শহরের প্রবীণ বাসিন্দা সত্যরঞ্জন অধিকারী বলেন, জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। সেজন্য দুই শহরের মানুষের সাঁতার জানাটা খুব জরুরি। আমুইপাড়ার বাসিন্দা খোকন দাস বলেন, নদীতে সাঁতার শেখায় ঝুঁকি রয়েছে। তাই অভিভাবকরা সন্তানদের নদীতে সাঁতার শিখতে দেন না। সুইমিংপুল হলে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে সাঁতার শেখা যাবে। ভাইস চেয়ারম্যান মলয় রায় বলেন, আপাতত প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সকাল ও বিকেল দুই শিফটে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।