নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুনের চেষ্টার এক মামলায় আদালতে দশ বছরের নাবালিকা চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হল তারই সাঁতার প্রশিক্ষক সন্দীপ সাউ। শুক্রবার শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস অভিযুক্ত ওই যুবককে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ, শনিবার তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হবে। সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার এদিন আদালতে অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া সাজার দাবি জানান।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দুপুরে উত্তর কলকাতার চিৎপুর থানা এলাকায় ওই নাবালিকার ফ্ল্যাটে আসেন সন্দীপ নামে ওই সাঁতার প্রশিক্ষক। যেহেতু তাকে সাঁতার শেখায়, তাই বেল বাজানো মাত্রই আইহোল দেখে নাবালিকা দরজা খুলে দেয়। বাড়িতে তখন নাবালিকার বাবা‑মা কেউই ছিলেন না। ফ্ল্যাটে ঢুকে যুবকটি আলমারি থেকে সোনার গয়না, টাকা, মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই নাবালিকাকে প্রথমে সে গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুনের চেষ্টা করে। সে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভান করে বিছানায় পড়ে যায়। এরপর সব্জি কাটার ছুরি দিয়ে সে নাবালিকার গলায় কোপ মেরে ফ্ল্যাট থেকে চম্পট দেয়। নাবালিকার চিৎকারে ছুঁটে আসেন আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। দ্রুত তাকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গলায় আঘাত গুরুতর থাকার কারণে সে ঘটনার দু’একদিন বাদে বিষয়টি একটি সাদা কাগজে লিখে ডাক্তারদের দেখায়। হাসপাতাল থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ সাঁতার প্রশিক্ষককে পাকড়াও করে।
সরকারি আইনজীবী জানান, প্রথমে পুলিশ ভেবেছিল এটি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা। কিন্তু পরবর্তী সময় নাবালিকার লিখিত বক্তব্যে বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এই মামলায় নাবালিকার উপস্থিত বুদ্ধি ও কোর্টে তার সাহসী সাক্ষ্যের প্রশংসা করেন বিচারক।