Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চেতলা অগ্রণীর সুইমিং পুলে শ্বাসকষ্ট, মৃত্যু তরুণ সাঁতারুর

সাতসকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি সুইমিং ক্লাবে মর্মান্তিক মৃত্যু। চেতলা অগ্রণীর সুইমিং ক্লাবের পুলে ডুবে মৃত্যু হল এক তরুণ সাঁতারুর। মৃতের নাম রিচিক চক্রবর্তী (১৯)।

চেতলা অগ্রণীর সুইমিং পুলে শ্বাসকষ্ট, মৃত্যু  তরুণ সাঁতারুর
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতসকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি সুইমিং ক্লাবে মর্মান্তিক মৃত্যু। চেতলা অগ্রণীর সুইমিং ক্লাবের পুলে ডুবে মৃত্যু হল এক তরুণ সাঁতারুর। মৃতের নাম রিচিক চক্রবর্তী (১৯)। কালীঘাট এলাকার বাসিন্দা তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চেতলা থানার পুলিশ। ততক্ষণে ক্লাবের সদস্যরাই ওই যুবককে পুল থেকে টেনে উপরে তোলেন। দ্রুত তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে চেতলা থানার পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। কীভাবে মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পুলের জলে দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে রিচিকের। 

Advertisement

কালীঘাট থানা এলাকার নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের বাসিন্দা রিচিক। বাবার নাম পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী। পরিবার সূত্রে খবর, রিচিক প্রথম বর্ষের কলেজ পড়ুয়া। ছোটো বয়সেই ও সাঁতার শিখেছিল। সাঁতার ওঁর নেশা ছিল। চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সুইমিং পুল উদ্বোধনের পর সেখানেই কসরত করতেন রিচিক। গত মার্চ মাসে ফের সদস্যপদ রিনিউ করেছিলেন তিনি। ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সাঁতারুরা চর্চা করতে পারেন। এদিন সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ ক্লাবে যান তরুণ। সুইমিং পুল সংলগ্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সকাল ৯টা বেজে ৬ মিনিট পর্যন্ত সাঁতারুর কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি ব্যাকস্ট্রোক প্র্যাকটিস করছিলেন। ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ তাঁর গতি স্লথ হয়ে যায়। সেই সময়ে পুলে আরও চার-পাঁচজন ছিলেন। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পুলের পাড়ে ছিলেন আরও অনেকে। রিচিক সম্ভবত অসুস্থ বোধ করছিলেন। সেই সময় পুলের মধ্যেই ভাসমান অবস্থায় আরও এক সাঁতারুর সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। আচমকা হাঁফ ধরে তাঁর। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সংজ্ঞা হারান তিনি। দ্রুত সেখানে যান ক্লাবের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। খবর দেন পুলিশে। কিন্তু শেষ অবধি বাঁচানো যায়নি রিচিককে। 
প্রায় ৫ মিনিটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। যুবকের ক্লাব সদস্যপদ ও পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। তাতে লেখা রয়েছে তিনি ‘সাঁতারু’। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জলের মধ্যে তাঁর শ্বাসকষ্ট হওয়ার কথা নয়। একইসঙ্গে, সাঁতারের জন্য চিকিৎসক রিচিককে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ বলে শংসাপত্র দিয়েছেন। তাহলে কী কারণে শ্বাসকষ্ট হল? পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলে সবটা স্পষ্ট হবে। ক্লাবের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ