নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: ‘জ্যাকেট’-এর জন্য স্বরূপনগরের দত্তপাড়ায় বুধবার শ্যুটআউট। খুন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সেই জ্যাকেটের হদিশ মেলেনি। তবে সোনা পাচারকারী দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরেই এই খুন এবং জ্যাকেট ছিনতাই, সে বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বুধবার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দত্তপাড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় হাকিমপুর সিন্ডিকেটের এক ‘মাথা’ ইসারুল গাজি। বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে আসা সোনার বিস্কুটের এক ‘কনসাইনমেন্ট’ আত্মসাত করার মতলবে ইসারুল তা পাচার করছিল বলে প্রাথমিক অনুমান।
তাঁরা মনে করছেন, জ্যাকেটের মধ্যে সোনার বিস্কুটগুলি (কমপক্ষে ১০-১২টি) রেখেছিল ইসারুল। ওপার (বাংলাদেশ) থেকে সে খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় তারালি-বিথারি এলাকার সিন্ডিকেটের কাছে। হাকিমপুর থেকে কোন পথে মোটর সাইকেল চালিয়ে ইসারুল স্বরূপনগরে যাচ্ছে, সে খবরও পায় প্রতিপক্ষরা। পথে দত্তপাড়ায় তাকে খতম করার সঙ্গেই পরনের জ্যাকেটও ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পুলিস বলছে, বুধবার ইসারুল খতম অপারেশনে দু’টি মোটর সাইকেলে মোট ছ’জন এসেছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে ঘটনার দু’ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। পঞ্চম ব্যক্তি ফজলু মণ্ডলকে এদিন বসিরহাটের গোপালপুর মাঝেরপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলি চালানোর পর এই ফজলুই জ্যাকেটটি ছিনিয়ে নিয়েছিল। তাহলে সেই জ্যাকেট এখন কোথায়? ফজলুকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ষষ্ঠ কোনও ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল ওই জ্যাকেট। তা থেকে ‘কাঙ্খিত’ সামগ্রী ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফজলুকে ১০ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার মেহেদি রহমান বলেন, গোটা বিষয়ে তদন্ত চলছে।