Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাড়ায় ভোট দিয়েই চক্কর স্বপ্না বর্মণের

তখন সকাল ৬টা। বাড়ির কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে পাতকাটা বিএফপি স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। পরনে সবুজ রঙের বাংলার তাঁতের শাড়ি।

পাড়ায় ভোট দিয়েই চক্কর স্বপ্না বর্মণের
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তখন সকাল ৬টা। বাড়ির কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে পাতকাটা বিএফপি স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। পরনে সবুজ রঙের বাংলার তাঁতের শাড়ি। সঙ্গে মা বাসনাদেবী এবং দুই দাদা পবিত্র বর্মন ও অসিত বর্মন।

Advertisement

তখন সবে ১৯৭ নম্বর বুথে মক পোল শুরু হয়েছে। কিন্তু তর সইছিল না ‘সোনার মেয়ে’র। বারবার ঘড়ি দেখছিলেন। বার দু’য়েক বুথে ঢুকে দেখে এলেন ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সব ঠিকঠাক আছে কি না। তারপর স্কুলের সিঁড়িতেই বসে পড়েন। ততক্ষণে বিভিন্ন বুথ থেকে দলের কর্মীদের ফোন আসতে শুরু করেছে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থীর মোবাইলে। তাঁদের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বললেন। জানিয়ে দিলেন, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন বুথ না ছাড়েন। কোনো অসুবিধা হলেই যেন তাঁকে ফোন করেন। এরই মধ্যে ঘড়ির কাঁটায় সাতটা বাজতেই বুথে বাড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা। পৌঁছল ফ্লাইং স্কোয়াড। ভোটকর্মীরা জানিয়ে দিলেন, ভোট শুরু হচ্ছে। 
স্বপ্নার পরিকল্পনা ছিল, নিজের পাড়ার বুথে সবার প্রথম ভোট দেবেন। সেইমতো আগেভাগে এসে লাইনে দাঁড়ান। প্রথমে ভোট দিতে বুথে ঢোকেন স্বপ্না। তারপর তাঁর মা ও দুই দাদা ভোট দেন। বুথ থেকে বেরিয়ে ভোটের কালি লাগানো আঙুল তুলে ভিকট্রি সাইন দেখান তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী। বলেন, অনেকদিন ধরেই ভোট দিচ্ছি। কিন্তু অন্যবারের থেকে এবারের ভোট সম্পূর্ণ আলাদা। এবার নিজেকেই নিজে ভোট দিলাম। 
স্বপ্না যখন বুথ থেকে বেরচ্ছেন, তখন ভোটের লাইন লম্বা হয়েছে। মেঘলা আকাশ। হাওয়া বইছে। গরমের দাপট নেই। ভরা বৈশাখে ভোটের সকালটা এমন হওয়ায় রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ভোটের আবহাওয়াও ভালো। এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ভোটের উপরই নির্ভর করছে, আমাদের অধিকার রক্ষা হবে কি না। নির্ভর করছে আমাদের পরিচয়, বাংলার অস্মিতা রক্ষা পাবে কি না। আমার মনে হয়, রাজগঞ্জের মানুষ সবটা ভেবেই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভোট দিয়ে রাজগঞ্জের ১২টি অঞ্চলে চক্কর কাটেন সোনার মেয়ে। কখনও তিনি গিয়েছেন ফাটাপুকুর, আবার পৌঁছে গিয়েছেন আমবাড়ি, টাকিমারি চর, গেটবাজার এলাকার বুথে। কেমন ভোট হচ্ছে, তা জেনেছেন দলের কর্মীদের কাছ থেকে। নিজেও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঢুকে দেখেছেন, সবটা ঠিক আছে কি না। দিনের শেষে জয় নিয়ে প্রত্যয়ী স্বপ্না।
তৃণমূলের রাজগঞ্জ ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সকাল থেকেই বুথ আগলে পড়ে থেকে ভোট করিয়েছি। হিসাব কষে বলে দিতে পারি, ৮-১০ হাজার ভোটে রাজগঞ্জে জিতছি আমরা। শিকারপুর পাতিলাভাসায় নিজের বুথে ভোট দিয়ে রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়ের দাবি, স্বপ্না তো জিতছেনই, জেলায় সাতটি কেন্দ্রেই এবার আমরা জয়ী হব। 
সন্ধ্যায় বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের (হারাধন) দাবি, ভোট ভালো হয়েছে। বুথের কর্মীদের কাছ থেকে যা খবর পাচ্ছি, তাতে আমি জিতছি। যদিও কত ভোটে জয় আসবে, তা বলা সম্ভব নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ