Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাজেটেই বাজিমাত শুভেন্দুর! ২০% ডিএ, ১ লক্ষ চাকরি, ৫ নতুন জেলা

শুভেন্দু অধিকারীর বাজেটে ২০% ডিএ বৃদ্ধি ও ১ লক্ষ নতুন চাকরির ঘোষণা। রাজ্যের উন্নয়নে নতুন ৫ জেলা গঠনের পরিকল্পনা। বিস্তারিত পড়ুন।

বাজেটেই বাজিমাত শুভেন্দুর! ২০% ডিএ, ১ লক্ষ চাকরি, ৫ নতুন জেলা
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেট! পালবদলের পর চলতি আর্থিক বছরের জন্য (২০২৬-২৭) মাত্র আট মাসের। আর সেই বাজেটেই বাজিমাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! সরকারি কর্মীদের বহু প্রতীক্ষিত ডিএ, কর্মসংস্থান, নতুন পাঁচ জেলার ঘোষণা, গ্রামোন্নয়ন, কৃষিক্ষেত্র, পরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলা সশক্তিকরণ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন সহ সব ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। গত বাজেটের (২০২৫-২৬) তুলনায় যা ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। রাজ্য কর্মীদের ডিএ একলাফে বাড়ল ২০ শতাংশ। ঘোষণা হল সরকারি শূন্যপদে ১ লক্ষ নিয়োগের। শিল্পস্থাপন এবং বিনিয়োগ আগ্রহীদের জন্য একসময়ে ‘ইনসেন্টিভ’ প্রথা চালু ছিল রাজ্যে। বিগত সরকার তা তুলে দিয়েছিল। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী তা ফিরিয়ে আনার ঘোষণা করেছেন। ১৫ বছরের অপেক্ষার শেষে বঙ্গে এবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, তার সুফল মিলল নয়া সরকারের প্রথম বাজেটেই। তীব্র কেন্দ্র বিরোধিতার জেরে যে সরকারি প্রকল্পগুলি থেকে বাংলা বঞ্চিত হচ্ছিল, তার জেরে রাস্তাঘাট, পরিকাঠামো উন্নয়ন, এমনকি সরকারি কর্মীদের ডিএ’র মতো সমস্যার সমাধান ঝুলে ছিল। আট লক্ষ কোটি টাকারও ঋণের বোঝা সত্ত্বেও, জনমোহিনী যে বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী, তাতে এবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট। তাতে উপকৃত হবেন বঙ্গবাসী।  

Advertisement

বৈষম্য আর অবহেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল এবার বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের অন্যতম ইস্যু। নির্বাচনে পদ্মপার্টিকে উজাড় করা সমর্থন দিয়েছে উত্তরবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার সেখানে পৌঁছে শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন—এবার ঋণ মেটানোর পালা! কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’হাত ভরে দিয়েছেন উত্তরবঙ্গকে। আইআইটি, আইআই‌এম, এইমস, ক্যানসার হাসপাতাল, মেট্রো রেল, নয়া পুরসভা, নতুন বিমানবন্দর, চা-শিল্পের উন্নয়নের পথ প্রশস্তকরণ, পাহাড়ে নতুন মেডিকেল কলেজ, স্পাইস হাব—কী নেই এদিনের বাজেট ঘোষণায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘সেবা, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি এই পাঁচটি ক্ষেত্রের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এমন কোনো অংশ নেই, যা বাদ গিয়েছে। এই বাজেটে পাহাড় হাসছে, তরাই-ডুয়ার্সও হাসছে, হাসছে গোটা রাজ্য।’ 
বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্পপত্রে বিজেপির ঘোষণা ছিল, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ’র ফয়সালা। এদিন বাজেটে কর্মচারীদের ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে। উচ্ছ্বসিত কর্মচারী মহল। এই ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী তো বটেই, এমনকি পেনশনভোগীরাও ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। এখন কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ’র ক্ষেত্রে যে ২২ শতাংশ ফারাক রইল, তাও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্ষমতায় বসেই বিভিন্ন দপ্তরে ঠিক কত শূন্যপদ রয়েছে, তার হিসাব দিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বাজেট ঘোষণায় সেই নির্দেশের কারণ স্পষ্ট হয়েছে। সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পাঠে স্বপনবাবু বলেছেন, সরকারি চাকরিতে যত নিয়োগ হবে, তার অর্ধেকই শিক্ষাক্ষেত্রে। বাকি শূন্যপদের মধ্যে ২০ হাজার নিয়োগ পুলিশ বিভাগে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখতে নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে ইউপিএসসি’র আদলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা হচ্ছে। শুভেন্দু বলেছেন, ওই কাঠামোয় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবে না। নিয়োগ ক্ষেত্রে দুর্নীতি যে হবে না, তারও গ্যারান্টি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় এসে সরকারি চাকরিতে বয়সে পাঁচ বছর ছাড়ের ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী দু’বছর এই ছাড় কার্যকর থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ