নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও তমলুক: দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরানোর সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সংস্কৃতি কেন্দ্র’ নামেই ডাকা হবে দীঘার এই মন্দিরকে। তবে পূজাপাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সনাতনী মতেই চলবে পুজো-পাঠ-কীর্তন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও তমলুক: দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরানোর সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ সংস্কৃতি কেন্দ্র’ নামেই ডাকা হবে দীঘার এই মন্দিরকে। তবে পূজাপাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সনাতনী মতেই চলবে পুজো-পাঠ-কীর্তন।
মঙ্গলবার নবান্নে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির পক্ষ থেকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরানোর আরজি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিৎ পাত্র। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর লেখা এই সংক্রান্ত একটি চিঠি তুলে দেন তিনি। গতবছর ২৯ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে রাজ্যের অর্থে তৈরি দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। নির্মাণকারী হিসাবে হিডকোর নথিতেও ‘ধাম’ শব্দটি ছিল না। অর্থাৎ সরকারি নথিতে প্রকল্পটি ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসাবেই অনুমোদিত ছিল। পরবর্তীকালে এই ‘ধাম’ শব্দটি যুক্ত করা হয়, যা নিয়ে আপত্তি ছিল ওড়িশার।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিৎ পাত্র জানান, জগন্নাথ মন্দির নিয়ে কোনো আপত্তি নেই, তবে ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি ছিল। তাঁর কথায়, অনন্তকাল ধরে সনাতন পরম্পরা অনুযায়ী ‘ধাম’ মাত্র চারটি। আদিগুরু শংকরাচার্য চারটি ধাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতের চার প্রান্তে। তারই মধ্যে একটি হল পুরীর ‘জগন্নাথ ধাম’। এখানে স্বয়ং নারায়ণ রয়েছেন। তাই ২০২৫ সালে দীঘায় যখন ‘জগন্নাথ ধাম’ নামে এই প্রকল্প উদ্বোধন হয় তখন ওড়িশাবাসীসহ মহাপ্রভুর কোটি কোটি ভক্ত দুঃখ পেয়েছিলেন, কষ্ট পেয়েছিলেন। সেইসময় বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকেও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এই ‘ধাম’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানান। কিন্তু তাঁর চিঠিকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে মঙ্গলবার তাঁদের আরজি মেনে নিয়ে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হল। এতে সমগ্র ওড়িশাবাসীর হয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সম্বিৎ। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশিকা মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জারি করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্দিরের ট্রাস্ট নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য।
দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত এবং ইসকন কলকাতার সহসভাপতি রাধারমণ দাস মুখ্যমন্ত্রীর ‘দীঘা জগন্নাথ ধাম’-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে ‘দীঘা জগন্নাথ মন্দির’ করার সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে এখন থেকে এই মন্দির ‘দীঘা জগন্নাথ মন্দির’ নামেই পরিচিত হবে। এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে প্রতিফলিত করে। এই নাম পরিবর্তনকে মতবিরোধের বিষয় হিসাবে
দেখা উচিত নয়। বরং এটি দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ। -নিজস্ব চিত্র