মুম্বই: শনিবার টি-২০ বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করবে টিম ইন্ডিয়া। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সূর্যকুমারদের প্রতিপক্ষ আমেরিকা। শক্তির নিরিখে এই ম্যাচ সহজেই জেতা উচিত গৌতম গম্ভীরের ছেলেদের। সূচি অনুযায়ী ভারতের সুপার এইটে না খেলার কোনও কারণ নেই। আসলে গ্রুপ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার একমাত্র কঠিন ম্যাচ বলতে পাকিস্তান। সেটা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। তবে খেলাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত। কারণ, পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে দল না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে সুর্যদের ওয়াক-ওভার পাওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার বাকি দু’টি ম্যাচ নামিবিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে।
তবুও কোচ গৌতম গম্ভীর আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। বরং প্রতিটি ম্যাচকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। কোচ জানেন, পচা শামুকে পা কাটলে সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হবে তাঁকে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ খেতাব ধরে রাখার অভিযান কঠিন হবে। তাছাড়া ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ান ডে সিরিজে হারের পর এমনিতেই চাপে কোচ গম্ভীর। টি-২০ সিরিজ দাপটে জিতে কিছুটা মুখরক্ষা হলেও ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তা রয়েই গিয়েছে। গম্ভীরের মাথাব্যথার বড় কারণ ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের অফ ফর্ম। কিউয়িদের বিরুদ্ধে শেষ টি-২০ ম্যাচে তাঁর পরিবর্তে ঈশান কিষানকে কিপিং করানো হয়। যা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সঞ্জুর খেলার সম্ভাবনা কম। হয়তো দুরন্ত ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে ঈশানকে। কামব্যাকের পর তিনিও ফর্মের চুড়োয়। একটা সেঞ্চুরি সহ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ঝড় তুলেছিলেন ব্যাট হাতে। তাই ওপেনার হিসেবে তাঁর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।
ভারতীয় দলকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে তিলক ভার্মার চোটমুক্ত হওয়া। আমেরিকার বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৮ রান করেছিলেন তিনি। বুধবার রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ। ওয়াংখেড়েতে তিলক তিন নম্বরে নামতে পারেন। কারণ, ঈশান এই পজিশনে সফল। তিনি ওপেন করলে তাঁর জায়গায় তিলক নামবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আর চারে সূর্যকুমার যাদব। ভারত অধিনায়ক দীর্ঘদিন পর বড় রানের স্বাদ পেয়েছেন। বেড়েছে আত্মবিশ্বাসও। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে বেশ চনমনে ‘মেন ইন ব্লুজ’। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে মূলত কম্বিনেশনের উপর জোর দেবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বোলিংয়ে অনেক খামতি রয়েছে। ওয়াংখেড়ের পিচের চরিত্র বুঝে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সেই মতো পেস ও স্পিনের সামঞ্জস্য রেখে দল সাজাতে পারে টিম ইন্ডিয়া।