Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্যমাত্রার বেশি সমীক্ষা, আবসে চলছে ঝাড়াই বাছাই

বাড়ি তৈরির অনুদান পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির জন্য এবার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করল নদীয়া জেলা প্রশাসন।

লক্ষ্যমাত্রার বেশি সমীক্ষা, আবসে চলছে ঝাড়াই বাছাই
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাড়ি তৈরির অনুদান পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির জন্য এবার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করল নদীয়া জেলা প্রশাসন। আবাস প্লাসে জেলায় সমীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭১৯ ছিল। শেষপর্যন্ত ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৭৬টি সমীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। সমীক্ষার যাবতীয় তথ্য রাজ্যে পাঠানোর পর এবার শুরু হয়েছে তথ্যের ঝাড়াই-বাছাই। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই-এর মাধ্যমে চিহ্নিত বেশকিছু উপভোক্তার নাম ও তথ্য আবার যাচাই করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। সেই তালিকা ধরেই পর্যায়ক্রমে বাড়ি তৈরির অনুদান দেওয়া হবে।

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস প্লাসের সমীক্ষায় নদীয়া জেলায় প্রথমে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭১৯টি সমীক্ষা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ চালাতে গিয়ে আরও বেশ কিছু সম্ভাব্য উপভোক্তার তথ্য সামনে আসে। ফলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৭৬টি সমীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯১৫৭ জন বেশি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্য রাজ্যস্তরে পাঠানোর পর শুরু হয়েছে যাচাই।
প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, সমীক্ষা শেষ হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট পরিবার আবাসের টাকা পাওয়ার জন্য চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হয়ে গিয়েছে এমনটা নয়। সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য বিভিন্ন স্তরে যাচাই করা হবে। এরপর শুরু হবে মূল ঝাড়াই-বাছাই। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর যোগ্য উপভোক্তাদের নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। সেই তালিকা প্রকাশের পর পর্যায়ক্রমে বাড়ি তৈরির জন্য অনুদান দেওয়া হবে।
এদিকে আবাস প্লাসের সমীক্ষায় বাড়ির শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার সময় কেন্দ্রের পোর্টালে মূলত কাঁচা বা পাকা এই দুই ধরনের বাড়ির উল্লেখ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে বহু বাড়ির পরিস্থিতি অন্যরকম। কোনো বাড়ির ইটের দেওয়াল থাকলেও ছাদ বা অন্য অংশ কাঁচা। আবার কোথাও সামান্য ইটের গাঁথনি রয়েছে। কাঁচাবাড়ি মানে তাতে কোনো ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবহার হয়নি। ফলে, সামান্য ইটের উপস্থিতিও ওই বাড়ি পাকা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনায় নদীয়ায় রয়েছে বড় সংখ্যক উপভোক্তা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে জেলার মোট উপভোক্তার সংখ্যা ৮৮ হাজার ১২৬। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭০ হাজার ৭৮৩ জন বাড়ি তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ফলে আবাস প্লাসের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে কত পরিবার বাড়ি তৈরির অনুদান পায়, এখন সেদিকেই নজর জেলা প্রশাসনের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ