নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সিল করার পরও রমরমিয়ে নলহাটি পাথর শিল্পাঞ্চলের অবৈধ খাদানটি চলছিল। দেদার লুট হচ্ছিল প্রাকৃতিক সম্পদ। বাহাদুরপুরে ওই খাদানে ধস নামায় পাথর চাপা পড়ে ছ’জন শ্রমিকের মৃত্যুর পর এবার জেলা পুলিশ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসল। গোপনে চলা অবৈধ খাদান খুঁজতে যৌথভাবে সার্ভের কাজে এবার গতি আনা হচ্ছে। জেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর খাদানগুলিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা আদৌ সুনিশ্চিত কিনা তা খতিয়ে দেখার কাজ এবার শুরু হতে চলেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, পাথর খাদানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, নিয়মিত সার্ভের কাজ চলছে। এবার সেই সার্ভের কাজে আরও বাড়তি নজর দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে প্রতিটি খাদানে শ্রমিকদের সুরক্ষার দিকটি নিয়ম মেনে সুনিশ্চিত করা হয়েছে কিনা তাও যাচাই করা হবে। কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ এলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটির বাহাদুরপুরের ওই পাথর খাদানটি শুরু থেকেই অবৈধভাবে চলছিল। চলতি বছরের গোড়াতেই বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। সেসময় তড়িঘড়ি প্রশাসনের তরফে ওই অবৈধ পাথর খাদানটি সিল করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়েই সিল করে দেওয়া অবৈধ পাথর খাদানটি আবারও রমরমিয়ে চলতে শুরু করেছিল। খাদানে ধসে ছ’জন শ্রমিকের মৃত্যুর পরই পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শ্রমিকরা জীবন বাজি রেখে এইসমস্ত খাদানে কাজ করছেন। ঝুঁকি রয়েছে জেনেও সংসার চালাতে খাদানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অবৈধ খাদান সিল করার পরও প্রভাবশালীদের মদতে ফের চালু হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে এবার জেলার আর কোথাও এধরনের অবৈধ পাথর খাদান রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সার্ভের কাজে গতি আনা হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, অবৈধ পাথর খাদানের হদিশ মিললেই তা সিল করে দেওয়া হবে। আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারবারের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেপ্তারির পথেও হাঁটতে পারে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’জন শ্রমিকের মৃত্যুর পর ওই অবৈধ পাথর খাদানটি আবারও সিল করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সিল করে দেওয়া ওই অবৈধ পাথর খাদান পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা তা পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই বিপর্যয়ের ঘটনায় পুলিশ খাদান মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে পাঁচদিন হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, অবৈধ পাথর খাদানের বিরুদ্ধে আরও কঠোরভাবে অভিযান চালানো হবে। জেলাজুড়ে অবৈধ পাথর খাদান চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।