নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাংসদদের গতিবিধির উপর সমানে নজরদারি চালাচ্ছে মোদি সরকার। না, এটি বিরোধীদের কোনো অভিযোগ নয়। খোদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকেই শুক্রবার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফেসবুক, টুইটার (এখন নাম এক্স), ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোন সাংসদ কী লিখছেন, কী মন্তব্য করছেন, কতক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি করছেন, সরকার তথা নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহর নামে কে কত সমালোচনামূলক পোস্ট করছেন, তার যাবতীয় রেকর্ডের রিপোর্ট কার্ড তৈরি রেখেছে মোদি সরকার।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে ডাকা হয়েছিল বিদ্রোহী তৃণমূল তথা এনসিপিআই সাংসদের। নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল, রামনাথ ঠাকুর, এম থাম্বিদুরাই, রামদাস আটাওয়ালে, উপেন্দ্র কুশওয়ার মতো এনডিএ শরিক সাংসদেরও। সেখানেই এনসিপিআইয়ের ১৯ সাংসদের প্রত্যেকের হাতে এক পাতার রিপোর্ট কার্ড দেওয়া হয়। গত ৯০ দিনের গতিবিধির রিপোর্ট। কে কতক্ষণ কোন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল দেখেছেন, কী পোস্ট করেছেন, কত লাইক এসেছে, কতজন ফলোয়ার, কত রিপোস্ট, গড়ে কত কোন সাংসদ পোস্ট করেন— সব ওই রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। আর ওই রিপোর্ট হাতে পেয়েই এনসিপিআই সাংসদরা সতর্ক হয়ে গিয়েছেন। অনেকেই চেষ্টা করছেন, বিজেপি বিরোধী থাকার সময় মোদি-শাহকে নিয়ে কুমন্তব্য ডিলিট করার।
এদিনের প্রাতরাশ বৈঠকে আমন্ত্রণ সত্ত্বেও অনুপস্থিত ছিলেন দীপক অধিকারী (দেব)। তিনি লাদাখে সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন ডেকেছেন, তখন তাঁর আসা উচিত ছিল বলেই এনসিপিআই সদস্যদের সিংহভাগের মত। বিশেষত, যখন গতিবিধির ওপর নজরদারি চলছে। ঠিক যেভাবে কলকাতা চলে গিয়েও বৃহস্পতিবার রাতে ফেরত এসেছেন মালা রায়, পার্থ ভৌমিক এবং জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেপি নাড্ডা এবং নীতিন নবীনও। সরাসরি বিজেপি বা এনডিএ বৈঠকে অ্যালার্জি থাকলেও দেখা গিয়েছে আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানকেও। ‘প্রধানমন্ত্রী’র নিমন্ত্রণ উপেক্ষা করতে পারেননি। রাতে অবশ্য এক্স হ্যান্ডলে দেব জানান, শ্যুটিংয়ের জন্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার ওই বৈঠকে এনসিপিআইয়ের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার বাংলার ঐতিহ্য মনে করাতে কলকাতা থেকে আনা নকশি কাঁথার শাল, হাতে বোনা ভেস্ট কোর্ট, গোলাপি লিলি ফুলের তোড়া দিয়েছেন। জুন মালিয়া দিয়েছেন শান্তিনিকেতনি উত্তরীয়। ‘ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে’র দিনে এই উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন মোদি। বলেছেন, বাংলা, বিহার, ওড়িশা সহ পূর্ব ভারতের হ্যান্ডলুমের ওপর সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সুযোগ পেয়ে বাপি হালদার গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা ঘোষণার অনুরোধও করেছেন।
মেনুতে ছিল ডাবের জল, মুসাম্বি জুস, চা, কফি, ছোট্ট স্যান্ডউইচ, মটর কচুরি, কেক, কুকিজ, ভেজিটেবল টার্ট, জিলিপি, মিষ্টি। খোশ মেজাজে মোদি সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও সাংসদদের মনে ঘুরছে নজরদারির অস্বস্তি। তা হয়ত আন্দাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, আমাদের সঙ্গে থাকুন। কোনো অসুবিধে হবে না।