নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজগুলিতে বাড়তি নজরদারি রাখা শুরু করল বিধাননগর কমিশনারেট। এখন থেকে প্রত্যেক অতিথির (বোর্ডার) ‘রিয়েল টাইম ডেটাবেস’ আপলোড করতে হবে পুলিসের দেওয়া নির্দিষ্ট পোর্টালে। অর্থাৎ বোর্ডার হোটেলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সে তথ্য আপলোড করতে হবে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে। একই সঙ্গে ভিন রাজ্য থেকে আসা কোনও অতিথির হাবভাব যদি সন্দেহজনক ঠেকে তাহলে তা তৎক্ষণাৎ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায়।
এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে কমিশনারেট। প্রবেশ ও প্রস্থান পথে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক। হোটেল, গেস্ট হাউস মালিকদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করছে পুলিস। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ২০টির মতো গাইডলাইন মালিকদের তুলে দিচ্ছেন পুলিস আধিকারিকরা। থানাগুলি নিজেদের এলাকায় থাকা হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিকে নিয়ে তৈরি করছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সেখানে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশনারেট।
সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন, বাগুইআটি, বিমানবন্দর সহ বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে থাকা হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজের সংখ্যা কয়েকশো। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিস নিয়মিত সেগুলিতে মনিটারিং চালায়। সম্প্রতি পাটনার শ্যুটআউট কাণ্ডের অভিযুক্তরা কলকাতার আনন্দপুর গেস্ট হাউস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপর থেকে বিধাননগর কমিশনারেট হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজগুলির উপর শুরু করেছে বাড়তি নজরদারি। হোটেল মালিকদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে চাইছে। এ কাজে মালিক পক্ষ সহযোগিতা করছেন। শুক্রবার বাগুইআটি ও বিমানবন্দর থানা এলাকার হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজ মালিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে পুলিস নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাইডলাইনগুলি জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
কী নির্দেশ দিয়েছে পুলিস? জানা গিয়েছে, অতিথিরা আসা মাত্রই পরিচয়পত্র নিতে হবে। তারপর পুলিসের দেওয়া নির্দিষ্ট পোর্টালে তাঁদের রিয়েল-টাইম ডেটাবেস আপলোড করবে হোটেল। রাখতে হবে ভিজিটর লগ বুক এবং হোটেল কর্মীদের রেজিস্টার। এর পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে আসা কাউকে কর্তৃপক্ষের সন্দেহজনক বলে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে থানায়। হোটেলের বৈধ সরাই (এসএআরএআই) লাইসেন্স, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সহ সমস্ত বিধি ঠিক মতো বজায় রাখতে হবে। কোনও নাবালককে অভিভাবক ছাড়া ভাড়া দেওয়া যাবে না। এছাড়া দেহ ব্যবসা, হোটেলের ওয়াইফাই ব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি ইত্যাদি অপরাধ যাতে না হয় সে সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে হোটেলকে। তা সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছে পুলিস। এছাড়া সিসি ক্যামেরা বসানো এবং তার রেকর্ডিং স্টোরেজ কম করে ৬০ দিন রাখার মতো ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পুলিসের এই উদ্যোগে আশ্বস্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ। বিধাননগরের পুলিস কমিশনার মুকেশ বলেন, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সমস্ত বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায় হচ্ছে ক্লোজড মনিটারিং।’