Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সুরোদা একাই তছনছ করে দিয়েছিল মোহন বাগানকে

কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু রাজধানী। মাঝেমধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আকাশের কালো মেঘের মতো ইস্ট বেঙ্গল ড্রেসিং-রুমও থমথমে। টিম মিটিংয়ে কোচ অরুণদা (ঘোষ) কিছুটা উদ্বিগ্ন।

সুরোদা একাই তছনছ করে দিয়েছিল মোহন বাগানকে
  • ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মিহির বসু: কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু রাজধানী। মাঝেমধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আকাশের কালো মেঘের মতো ইস্ট বেঙ্গল ড্রেসিং-রুমও থমথমে। টিম মিটিংয়ে কোচ অরুণদা (ঘোষ) কিছুটা উদ্বিগ্ন। রাত পোহালেই ১৯৭৮-৭৯ মরশুমের ডুরান্ড কাপ ফাইনাল। নয়াদিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে মহারণ। প্রবল প্রতিপক্ষ মোহন বাগানের বিরুদ্ধে নামার আগে লাল-হলুদের কট্টর সমর্থকরাও বেশ চিন্তায়। সেবার মোহন বাগানের কোচ কিংবদন্তি পিকে ব্যানার্জি। এককথায় তারকাখচিত দল। সুধীরদা, গৌতমদা, ভৌমিকদা, শ্যামদা, মানস, বিদেশ— কে নেই! তুলনায় কিছুটা জুনিয়র ফুটবলার নিয়ে দল গড়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। দিল্লির মাঠে লাল-হলুদ মশাল কি জ্বলবে? আশঙ্কায় ছিলেন অনেকেই। আম্বেদকরে পাশার দান উলটে দিয়েছিলাম আমরা। ৩-০ গোলে মোহন বাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড জয়। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে নেমে এসেছিলেন সমর্থকরা। সেই দৃশ্য এখনও চোখের সামনে ভাসে। রবিবার আরও একটা ডুরান্ড ফাইনাল। যুবভারতীতে হেভিওয়েট মোহন বাগানের সামনে ইস্ট বেঙ্গল। অনেকেই কয়েক মাইল এগিয়ে রাখছেন লিস্টনদের। পরিবেশ, পরিস্থিতি, টিমের ব্যালান্সের বিচারে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনোয়ার, জেসিনদের তাগিদ সবকিছুর জবাব দিতে পারে। সাতের দশক হোক বা ২০২৬, টিম স্পিরিটই লাল-হলুদের সম্পদ।

Advertisement

১৯৭৭ সালে ঘরোয়া লিগের বড়ো ম্যাচে জাল কাঁপাই। সেই ভলি নিয়ে এখনও জোর চর্চা। তারপর কিন্তু দাপট দেখিয়েছিল মোহন বাগানই। বাবলুদা, চৌধুরীদা (প্রদীপ), শিবাজীদারা ত্রিমুকুট পায়। পরের মরশুমে মোহন বাগান আরও সংঘবদ্ধ। রাশিয়ার শক্তিশালী আরারাতের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে শিল্ডে যুগ্মজয়ী হয় পালতোলা নৌকা ব্রিগেড। তথাকথিত বিশেষজ্ঞরাও এগিয়ে রেখেছিলেন গঙ্গাপাড়ের ক্লাবকে। কিন্তু খেলা শুরু হতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ইস্ট বেঙ্গল। মনোরঞ্জন, প্রশান্ত, চিন্ময়, সত্যজিৎ মিত্রদের জেদ। সামনে একা সুরজিৎদাই তছনছ করে দিয়েছিল বিপক্ষ রক্ষণ। শুরুতে সুরোদার গোলের পর ম্যাচের রাশ ছিল আমাদেরই দখলে। বিরতির আগে আমার জ্যাবে ২-০। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে জাল কাঁপায় পরিবর্ত হিসাবে নামা তপন দাস (৩-০)। লাল-হলুদের অন্যতম সেরা ডুরান্ড জয়। আমি আশাবাদী, রবিবার রশিদরাও বুকের বারুদ উজাড় করে দেবে। লড়াইয়ের অপর নামই যে ইস্ট বেঙ্গল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ