মিহির বসু: কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু রাজধানী। মাঝেমধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আকাশের কালো মেঘের মতো ইস্ট বেঙ্গল ড্রেসিং-রুমও থমথমে। টিম মিটিংয়ে কোচ অরুণদা (ঘোষ) কিছুটা উদ্বিগ্ন। রাত পোহালেই ১৯৭৮-৭৯ মরশুমের ডুরান্ড কাপ ফাইনাল। নয়াদিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে মহারণ। প্রবল প্রতিপক্ষ মোহন বাগানের বিরুদ্ধে নামার আগে লাল-হলুদের কট্টর সমর্থকরাও বেশ চিন্তায়। সেবার মোহন বাগানের কোচ কিংবদন্তি পিকে ব্যানার্জি। এককথায় তারকাখচিত দল। সুধীরদা, গৌতমদা, ভৌমিকদা, শ্যামদা, মানস, বিদেশ— কে নেই! তুলনায় কিছুটা জুনিয়র ফুটবলার নিয়ে দল গড়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। দিল্লির মাঠে লাল-হলুদ মশাল কি জ্বলবে? আশঙ্কায় ছিলেন অনেকেই। আম্বেদকরে পাশার দান উলটে দিয়েছিলাম আমরা। ৩-০ গোলে মোহন বাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড জয়। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে নেমে এসেছিলেন সমর্থকরা। সেই দৃশ্য এখনও চোখের সামনে ভাসে। রবিবার আরও একটা ডুরান্ড ফাইনাল। যুবভারতীতে হেভিওয়েট মোহন বাগানের সামনে ইস্ট বেঙ্গল। অনেকেই কয়েক মাইল এগিয়ে রাখছেন লিস্টনদের। পরিবেশ, পরিস্থিতি, টিমের ব্যালান্সের বিচারে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনোয়ার, জেসিনদের তাগিদ সবকিছুর জবাব দিতে পারে। সাতের দশক হোক বা ২০২৬, টিম স্পিরিটই লাল-হলুদের সম্পদ।



