Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গিলের থেকে এগিয়ে রাখব বিশালকেই

ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগে সাজো সাজো রব। সোশ্যাল সাইটে সমর্থকদের তরজা। টিকিটের আবদারের চেনা ছবি। পরিচিত অনেকেরই প্রশ্ন, ‘দাদা কে জিতবে?’ মুচকি হেসে এড়িয়ে যাচ্ছি।

গিলের থেকে এগিয়ে রাখব বিশালকেই
  • ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগে সাজো সাজো রব। সোশ্যাল সাইটে সমর্থকদের তরজা। টিকিটের আবদারের চেনা ছবি। পরিচিত অনেকেরই প্রশ্ন, ‘দাদা কে জিতবে?’ মুচকি হেসে এড়িয়ে যাচ্ছি। আসলে বড়ো ম্যাচের ফল আগাম বলা সম্ভব নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছি দুই প্রধানের গোলরক্ষকের দিকে। দুই ‘পাঞ্জাব কি পুত্তর’ বিশাল কাইথ ও প্রভসুখন গিল দুরন্ত ফর্মে। ডার্বির রং তাদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে বিশাল। আমার মার্কশিটে ১০ এর মধ্যে ৮ নম্বর পাবে মোহন বাগান গোলরক্ষক। গিলের জন্য বরাদ্দ ৭।

Advertisement

বিশাল ক্লাব ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু জাতীয় দলে সেভাবে ডাক পায় না কেন? সামনে পেলে খালিদ জামিলকে প্রশ্ন করতে চাই। দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বিশালই। গত কয়েক মরশুম মোহন বাগানের ধারাবাহিক সাফল্যে ওর অবদার কম নয়। রিফ্লেক্স অসাধারণ। চলতি টুর্নামেন্টের প্রথম ডার্বির কথা মনে করুন। শেষ মুহূর্তে রশিদের শট অবিশ্বাস্যভাবে সেভ করে বিশাল। দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ছাড়া ওই সেভ অসম্ভব। বল গ্রিপ করার ক্ষেত্রেও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। টাই-ব্রেকার সেভের ক্ষেত্রেও বিশাল অনবদ্য। এক গ্লাস জল খাওয়ার মতোই অনায়াসে কিক রুখে দেয়। বিপক্ষ ফুটবলাররাও হয়তো বিশালের সামনে মানসিক চাপে পড়ে যাচ্ছে। এখানেই গোলকিপারের কৃতিত্ব। প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে। বিশালের খেলা দেখে শিবাজী ব্যানার্জির কথা মনে পড়ছে। তাছাড়া, ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কাইথ এগিয়ে। বাজে গোল খুব কম খেয়েছে। বারের নীচে বিশাল থাকা মানে রক্ষণও নিশ্চিন্ত। 
প্রভসুখন গিলের প্রসঙ্গে আসা যাক। গত আইএসএলে গিল না থাকলে ইস্ট বেঙ্গল খেতাব জিতত কিনা সন্দেহ। ডার্বিতে শেষ মুহূর্তে ম্যাকলারেনের পুশ অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচিয়েছিল গিল। ছেলেটার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অসাধারণ। সবসময় টগবগে। চলতি মরশুমে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দিল্লির বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ করার পর টাই-ব্রেকারও রুখে দেয়। যা মানসিকভাবে ওকে অনেকটাই উদ্বুদ্ধ করবে। তবে গিলকে ধারাবাহিক হতে হবে। গোলকিপারের ক্ষেত্রে ভুলের কোনও ক্ষমা নেই।
গোলরক্ষকদের আলোচনায় কোনও বাঙালি নেই। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে যা মনে কষ্ট দেয়। সনৎ শেঠ থেকে তরুণ বসু। ভাস্কর থেকে সন্দীপ নন্দী কিংবা সুব্রত পাল। বারের নীচে বরাবরই দাপট দেখিয়েছে বঙ্গসন্তানই। সেখানেও ভাটার টান। এই হাল কেন? ফুটবলের মাঠগুলো অধিকাংশই খাঁ খাঁ করে। বাঙালি মধ্যবিত্ত বোধহয় মাঠে নামতে উৎসাহী নয়। বৃষ্টিভেজা বিকেলে শূন্য মাঠের দিকে তাকিয়ে গুমরে কেঁদে ওঠে মন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ