নয়াদিল্লি: আইনের পড়ুয়াদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার কোনো অধিকার বার কাউন্সিলের নেই। পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিতে পারে না কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার নালসার মামলায় এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এরফলে বড়োসড়ো স্বস্তি পেলেন হায়দরাবাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। এরপরই এক নির্দেশ জারি করেন বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র। সেখানে বলা হয়, নালসারের ২০২৬ সালের কোনো স্নাতক বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসাবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না। একইসঙ্গে প্রধান বিচারতিকে নিয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশও দেন মিশ্র। দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে একঘণ্টার মধ্যেই একঘণ্টার মধ্যেই ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করেন চেয়ারম্যান। পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি। এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন নালসারের দুই প্রাক্তনী মিহিরা সুদ ও অভিষেক তিওয়ারি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে আবেদনকারীদের পক্ষে বলা হয়, কোন এক্তিয়ারে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন তা খতিয়ে দেখা উচিত। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পড়ুয়াদের পক্ষেই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো অধিকার নেই বার কাউন্সিলের। কাউন্সিলের জারি করা দু’টি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার এক্তিয়ার শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আইনজীবী হিসাবে নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্নাতকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে না বার কাউন্সিল।
নালসারের ঘটনায় আগেই প্রধান বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন মনন কুমার মিশ্র। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, এটি একান্তই তাঁর ও পড়ুয়াদের মধ্যেকার ইস্যু। পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করার অধিকারের পক্ষেও সওয়াল করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।