নয়াদিল্লি: একজন মহিলা যদি বিয়ের পর রান্না না করেন, তা কখনই নির্যাতন হিসাবে গণ্য হতে পারে না। একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, ‘আপনি পরিচারিকাকে বিয়ে করেননি, একজন জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করছেন।’ বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘সময় বদলে গিয়েছে। স্বামীকেও রান্না, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজে সাহায্য করতে হবে।’
২০১৭ সালে বিয়ে হয়েছিল ওই দম্পতির। তাঁদের আট বছরের এক সন্তানও রয়েছে। মামলাকারী ব্যক্তি বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে মামলা করেন। তাঁর দাবি, বিয়ের এক সপ্তাহ পরেই তাঁ স্ত্রীর আচরণ বদলে যায়। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, স্ত্রী পরিবারের সকলের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালিগালাজ করতে শুরু করেন। ওই ব্যক্তির দাবি, স্ত্রী রান্না করতে চাইতেন না। সন্তান জন্মের পর অন্নপ্রাশনেও নিমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে, ওই মহিলা পালটা দাবি করেন, তিনি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সম্মতি নিয়েই সন্তানের জন্মের আগে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। স্বামীর পরিবারের লোকজনই সন্তানের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে আসেননি। উলটে টাকা ও গয়না দাবি করেন। এর আগে নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তির বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। বিচ্ছেদের কারণ হিসাবে ‘নির্যাতন’ উল্লেখ করা হয়। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। পালটা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি।