নয়াদিল্লি: বুধবার ঐতিহাসিক রায়ে হরিশ রানার পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যুর আরজি মঞ্জুর করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। ১৩ বছর আগের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল তরতাজা এই যুবকের স্বাভাবিক জীবন। চেতনা নেই। কোমায় আচ্ছন্ন। আদালতের রায়ে অবশেষে সেই যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে।
পরিবার সূত্রে খবর, পড়াশোনার পাশাাপশি খেলাধুলো নিয়ে হরিশের দারুণ উৎসাহ ছিল। নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চাও করতেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিটেক পড়তেন হরিশ। দাদার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর ভাই আশিস। ফুটবল সহ নানা খেলায় দাদার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। হরিশের চিকিৎসার জন্য সাধ্যের বাইরে গিয়ে লড়াই করেছে পরিবার। বিক্রি করে দিতে হয়েছে বাড়িও। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, একটি হসপিটালিটি চেইনের ক্যাটারিং ডিপার্টমেন্টের কর্মী ছিলেন হরিশের বাবা অশোক। মাসে ৩৬০০ টাকার সামান্য পেনশন পান তিনি। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন হরিশের ভাই। এই পরিস্থিতিতে হরিশের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবার। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে একটি ক্রিকেট মাঠে স্যান্ডইইচ বিক্রি করেন বর্তমানে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা অশোক।
২০১৩’র আগস্টে পাঁচ তলা থেকে পড়ে যান হরিশ। দুর্ঘটনার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় পিজিআই চণ্ডীগড়ে। তারপর থেকে একাধিক হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা করা হলেও তার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। হরিশের মেডিক্যাল রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে কোনও ধারনাই নেই হরিশের। তাঁর ঘুমানো ও জেগে ওঠার চক্র সক্রিয় রয়েছে। চোখ খুলতে ও বন্ধ করতে পারেন। তবে চোখের দৃষ্টি শূন্য, অনুভূতিহীন। উল্লেখ্য, হরিশের মা বছর চারেক আগেই ছেলের নিষ্কৃতি মৃত্যু চেয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে চেয়েছিলেন।