


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সন্দেহজনক’ ভোটার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। তাঁরাই সমাধান করবেন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জটিলতার। ২৪ ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে বেনজির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো শনিবারই রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ভার্চুয়ালি সেই আলোচনায় হাজির ছিলেন সব জেলার বিচারকরা। এমনকি সদ্য প্রাক্তন বিচারকরাও। বৈঠক শেষে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সব জেলার দায়রা বিচারকদের এসআইআরের নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সুপ্রিম নির্দেশমতো থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা বিচারকরাও। সূত্রের খবর, আপাতত সোমবারই প্রায় ১৫০ জন জেলা জজ ওই কাজে যোগ দেবেন। প্রথমে চলবে প্রশিক্ষণ পর্ব। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অবসর নেওয়া সাতজন প্রাক্তন বিচারপতির নামও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদেরই গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রাখার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যদিও মোট কত জন বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে এই কাজে লাগানো হবে, তা এদিন স্থির হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি এগোবে বলে সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।
বৈঠকের পর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। জানানো হয়েছে, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত আদালতের সব জুডিশিয়াল অফিসারদের ছুটি বাতিল। অত্যন্ত জরুরি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া আপাতত আর কেউ ছুটি নিতে পারবেন না। যাঁরা ছুটি নিয়েছেন, তাঁদের ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। বাতিল হয়েছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সব ধরনের প্রশিক্ষণের কাজও। ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিতে যে প্রশিক্ষণের কথা ছিল, তাও হচ্ছে না।
এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়েছিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পান্ডে, মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এবং অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রয়োজনে আবার বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে এদিন।
বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক সমস্ত তথ্য কমিশনের তরফে সরবরাহ করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন কিংবা প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে দিল্লি, ডিইও অফিস বা অন্য যে-কোনো স্তর থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও কমিশন প্রস্তুত। খাতায় কলমে শনিবারই ছিল স্ক্রুটিনির শেষ দিন। এবিষয়ে সিইও বলেন, রাত ১২ টা পর্যন্ত জেলায় জেলায় নথি সংক্রান্ত সমস্যা নিষ্পত্তির কাজ চলবে। রবিবারই স্পষ্ট হয়ে যাবে, ঠিক কত সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই করতে হবে বিচারকদের। এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিই।