নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: এবার পুজোয় ‘হিট’ দাওয়াইপানি। ঝরনা, পাইন বন ও অর্কিড ঘেরা পাহাড়ি গ্রাম। হোমস্টের বিছানা থেকে জানালা দিয়ে উঁকি দিলেই দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। সঙ্গে পাখির কলোরব। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতেই পুজোর চারদিন এখানে ভিড় করেন পর্যটকরা। সেই সঙ্গে তাঁরা শুনলেন অসুস্থ ব্রিটিশ সাহেবের সুস্থ হওয়ার গল্প ও দাওয়াইপানি নামের ইতিহাস। এনিয়ে গ্রামবাসীরা উচ্ছ্বসিত। তাঁদের প্রত্যাশা, দীপাবলি ও শীতের পর্যটন মরশুমেও এখানে ঢল নামবে পর্যটকদের।
‘শৈলরানি’ দার্জিলিংয়ের কোলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্যা অফবিট পর্যটন কেন্দ্র। সেগুলির মধ্যে দাওয়াইপানি একটি। এই নামের উৎপত্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লোককাহিনী। কথিত আছে, ব্রিটিশ আমলে এক ব্রিটিশ সাহেব এই গ্রামে এসেছিলেন। তিনি খুব অসুস্থ ও দুর্বল ছিলেন। গ্রামবাসীরা তাঁকে স্থানীয় একটি প্রাকৃতিক ঝরনা থেকে জল এনে দিয়েছিলেন। কয়েকদিন সেই জল খাওয়ার পর ব্রিটিশ সাহেব অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই থেকে এখানকার জল পবিত্র ও ওষুধি গুণসম্পন্ন বলে স্থানীয়দের ধারণা। গ্রামবাসীদের সেই বিশ্বাস আজও অঁটুট। এখান থেকেই গ্রামের নামকরণ ‘দাওয়াই পানি’। যার অর্থ ওষধি জল। পুজোয় ঘুরতে এসে এমন ইতিহাস শুনে অভিভূত পর্যটকরা। পর্যটকরা বলেন, ঝরনা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামের ইতিহাস মুগ্ধ করেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই পাহাড়ি গ্রাম। এখানেই পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে ঝরনা। সেই সঙ্গে পাইন গাছ, অর্কিড ঘেরা গ্রামটিতে সর্বক্ষণ ভিড় করছে নানা প্রজাতির পাখি। শিলিগুড়ি শহর থেকে গ্রামটিতে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় দু’ঘণ্টা। আর শৈল শহর দার্জিলিং থেকে গ্রামটির দূরত্ব মাত্র ২১ কিমি। কোলাহলহীন এই গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। কয়েকজন পর্যটক বলেন, শৈল শহর দার্জিলিং যানজটে জেরবার। জনবহুল ম্যাল রোড গাড়ির হর্নে জর্জরিত। তাই পুজোয় এখানে ঘুরতে এসে লুকিয়ে থাকা স্বর্গের সৌন্দর্য অনুভূত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট গ্রাম দার্জিলিং-পুলবাজার ব্লকের অধীনে। এখানকার বাসিন্দারা এখন হোমস্টের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গ্রামটিতে হোমস্টের সংখ্যা প্রায় ৫০টি। গ্রামবাসীরা বলেন, নিরিবিলি এই গ্রামের বাতাস নির্মল। টাইগার হিল বা বাতাসিয়া লুপের মতো এটাও কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের ভিউপয়েন্ট। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হোমস্টের জানালার পর্দা সরালেও দর্শন মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালার। যা ‘শায়িত বুদ্ধ’ নামে পরিচিত। পুজোর ক’দিন প্রতিটি হোমস্টের রুম ছিল ভর্তি। ভাত, ডাল, সব্জি, দেশি মুরগি, গুন্দ্রুক, কিনেমা খেয়েছেন পর্যটকরা। এখনও পর্যটকদের ভিড় রয়েছে। দীপাবলি ও শীতের মরশুমে ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। • ফাইল চিত্র।



