সুকান্ত বেরা, কলকাতা: ইডেনের সামনে ভিড় ধীরে ধীরে বাড়ছে। পুলিসের তৎপরতা তুঙ্গে। বোঝাই যাচ্ছে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের টিম বাস ঢুকবে। বিকেল সাড়ে চারটেয় অনুশীলন শুরু নাইটদের। মিনিট পঁচিশ তখনও বাকি। মাঠের দিকে একটু উঁকি মারতেই চোখে পড়ল অন্য ছবি। নেটে বল করছেন সুনীল নারিন। ব্যাটসম্যান মঈন আলি। অদ্ভুত এক কম্বিনেশন। তাঁদের প্র্যাকটিস রেকর্ডিংও হচ্ছে। আশেপাশে আর কেউ নেই। না থাকারই কথা। দেখে মনে হল, আগেই তাঁরা মাঠে চলে এসেছেন। একটা করে ডেলিভারি করেই নারিন ছুটছেন ফুটেজ দেখতে। রিপ্লেতে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ভুলত্রুটি। গলদ কোথায়, তা ভিডিও অ্যানালিস্ট জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁদের।
এই দৃশ্যেই স্পষ্ট, ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। তিন ম্যাচে দু’টিতে হার। কোনওকিছু যেন ঠিকঠাক হচ্ছে না গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। শ্রেয়স আয়ারকে ছাড়া যে কত বড় ভুল ছিল, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন শাহরুখরা। মুম্বইয়ের কাছে হেরে পয়েন্ট তালিকায় একেবারে তলানিতে নাইটরা। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা মঞ্চ অবশ্যই ইডেন। ঘরের মাঠ, সঙ্গে বিপুল দর্শক সমর্থন। শোনা যাচ্ছে, বহু বিতর্কের পর স্পিন সহায়ক পিচও পাচ্ছেন নাইটরা। সেটাকেই হাতিয়ার করতে চায় কেকেআর। বৃহস্পতিবার রাতে সূর্যাস্ত ঘটাতে নারিনদের স্পিন চক্রব্যূহ তৈরি।
বিপক্ষ দলে ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান। নাম শুনলেই যে কোনও বোলারের পা কাঁপবে। তাঁরা সেট হয়ে যাওয়া মানে তিনশোর সম্ভাবনা জন্ম নেওয়া। হেডদের দ্রুত ডাগ-আউটে ফেরাতে না পারলেই বিপদ। কেকেআরের পেস বিভাগ বড়ই সাদামাটা। একেবারে পাতে দেওয়া যাচ্ছে না স্পেনসর জনসনকে। কোচ পণ্ডিত তাই দুই ভারতীয়ের উপর ভরসা রাখতে চাইছেন— বৈভব অরোরা ও হর্ষিত রানা। তাঁদের সঙ্গী হাতে পারেন রাসেল।
ম্যাচ জিততে স্পিনাররাই যে কেকেআরের হাতিয়ার, সেটা বুধবারের প্র্যাকটিসেও স্পষ্ট। একটা নেটে বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারিন, মঈন আলি ক্রমাগত হাত ঘোরালেন। পিচও দেখলেন তাঁরা। খুশির অভিব্যক্তি চোখেমুখে। মঈনের পিঠে বেঙ্কির হাত রাখা যেন তারই ইঙ্গিত। তবে ইডেনের পিচ বিতর্ক মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার পরামর্শ দিলেন কেকেআরের মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভো। তাঁর সাফ কথা, ‘পিচ যেমনই হোক, জিততে গেলে মাঠে নেমে ভালো পারফর্ম করতে হবে। সেদিকেই সবার নজর দেওয়া উচিত।’